১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:২৮
রাষ্ট্র যখন তার নাগরিক হত্যার প্রতিবাদ ঠিকমতো করতে পারে না, নাগরিককে নগ্ন করে নির্যাতনের পরও যখন রাষ্ট্র চুপ থাকে, দেশের প্রতি অগাধ ভালোবাসা নিয়ে কিছু তরুণ যখন ভারতীয় ওয়েবসাইট হ্যাক করে তার প্রতিবাদ জানায় তখন তাদেরই আইনের আওতায় নিয়ে আসার পরামর্শ দেয় তথাকথিত তথ্যপ্রযুক্তিবিদ(!) মোস্তফা জব্বার। সাইবার-যুদ্ধ সম্পর্কে এই আইটি বিশেষ-অজ্ঞ ফর্মায়য়াছেন, "যারা হ্যাক করছে তাদের বোঝা উচিত বাংলাদেশের আইটি সেক্টর ভারতের চাইতে অনেক দুর্বল। এই সেক্টরে ভারত বিশ্বে অনেক এগিয়ে গেছে। যদি হ্যাকিং করার প্রবণতা আরো বেড়ে যায় এবং ভারতীয় আইটি এক্সপার্টরা যদি বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে নেয় তাহলে এর ফল খুব ভালো হবে না। কারণ বাংলাদেশের বিভিন্ন ওয়েবসাইট বিশেষকরে সরকারি ওয়েবসাইটের নিরাপত্তাব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। তাহলে কেন নিরীহ কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের সাইট হ্যাকিং-এর শিকার হলো?" এই জব্বারের মত আইটি বিশেষ-অজ্ঞ থাকতে সরকারী সাইটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল কেন?? ইন্ডিয়ার 'নিরীহ' সাইট!! হাঃ হাঃ!! এই ব্যাটা তুই ক্রাইম বোঝস? সীমান্তে 'নিরীহ' মানুষ হত্যা করা ক্রাইম না? কাঁটাতারে লটকায়া রাখে ঐটা ক্রাইম না? নেংটা করে পিটায় ঐটা ক্রাইম না?? আইটি সেক্টরে আমরা পিছিয়ে কোথায়?? সুযোগ সুবিধায় হয়ত আমরা পিছিয়ে, কিন্তু মেধার দিকদিয়ে যে আমরা পিছিয়ে নই তা আমরা বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছি। শুধু তাই নয়, আজ যেই অভ্র সফটওয়ার দিয়ে বাংলা লেখায় ফুটে উঠছে সারা ইন্টারনেট, সে সেই সফটওয়ারেরও বিরোধিতা করেছিল। এমনকি অভ্র বন্ধ করতে দিতে চেয়েছিল এই লোক। কেন স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সুসজ্জিত পাকিস্তানি আর্মি পারেনি আমাদের সাথে? কি ছিলো আমাদের? আমাদের যুদ্ধের প্রধান অস্ত্র স্পিরিট, যুক্তিহীন আবেগ, নিখাদ ভালবাসা। এগুলো সম্বল করেই আমরা এগিয়ে চলেছি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন