১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

প্রসঙ্গ থাবা বাবা

আমি ধর্মান্ধ নই, নই উগ্র। একজন মুসলমান হিসেবে মনে করি কোন খুনকেই উৎসাহ দেয়া যায়না। গতরাত থেকে লক্ষ করলাম অনেকেই ব্লগার থাবা বাবার হত্যা খুশি হয়েছেন। ইসলাম মতে এটা কতটা ঠিক? সে আমাদের সবচেয়ে আবেগের স্থান মুহাম্মদ(সঃ) নিয়ে কুটুক্তি করেছে, তাতে তার প্রতি আমার কোন আবেগ নেই। কিন্তু হত্যাকে উৎসাহ দিতে পারিনা(অধিকাংশের সন্দেহ শাহবাগের আন্দোলনের কারনে তাকে শাহবাগ আন্দোলনের বিরুধী একটী চক্র হত্যা করে থাকতে পারে।), ইসলামের নামে রাজনীতি করে যদি কেউ এটা করে তবে বুঝতে হবে তারা ইসলামী দল নয়, ভন্ডের দল।
তবে একটি ঘটনায় আশ্চর্য্য হচ্ছি, তার সৎকার্য নিয়ে। যেহেতু তিনি মুসলিম ছিলেননা তাই তার সতকার্য মুসলিম রীতিতে পালন কেন? 

এটা কি তার বিশ্বাসের প্রতি অবমাননা নয়?
 আর যে কাঠমোল্লা জানাজা পড়াবেন তিনি কি জানেন একজন অমুসলিমের জেনেশুনে জানাজা পড়ালে কি হতে পারে? উনার পাপকতটুকু হতে পারে?

রাজাকার সে যে দলেরই হোক আমরা ব্লগাররা তাদের বিচার করেই ছাড়ব

সামু ব্লগারঃ আলপনা 

আমরা বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম আজ এখানে মিলিত হয়েছি রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে আমাদের দাবী আমরা সব রাজাকারের ফাঁসি চাই।

৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তান বাহিনীর সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে, এমন অভিযোগে বিরোধীজোট বিএনপি ও জামায়াতরে এক ডজন নেতার বিচার চলছে।

আওয়ামী লীগ সরকার। তারা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের কথিত স্বপক্ষ শক্তি দাবি করে এ বিচার করলেও তাদের দলে থাকা রাজাকারদের ব্যাপারে একেবারে নিরব।

এ দলটিতেও রয়েছে, কুখ্যাত রাজাকার, আল বদর, আল শামস, গণহ...ত্যকারী, গণধর্ষণকারী, অগ্নিসংযোগাকরীসহ অসংখ্য স্বাধীনতাবিরোধী। কিন্তু তারা রয়েছেন ধরা ছোয়ার বাইরে। তবে আওয়ামী লীগের নেতারা বিভিন্ন সময় বক্তৃতায় বলেছেন, আওয়ামী লীগে রাজাকার থাকলে দেখিয়ে দেন-আমরা তাদের বিচার করব। অনুসন্ধানে নিচে ২৩ আওয়ামী রাজাকারের তালিকা তুলে ধরা হলো।

আওয়ামী লীগের এই ২৩ জন যুদ্ধাপরাধী বা তাদের পরিবার কোন না কোনভাবে ৭১ সালে পাকিস্তান সরকার ও যুদ্ধাপরাধের সাথে জড়িত ছিলেন। মক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের এসব নেতা ঘৃণিত ভূমিকা পালন করেছেন। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতেতে সক্রিয় থেকে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি বনে গিয়েছে। ১৯৭১ সালে মক্তিযোদ্বাদের হত্যাসহ নানা ধরনের মানবতবিরোধী অপরাধের সঙ্গে তারা যুক্ত ছিলেন তারা।

নিচে আওয়ামী লীগের এসব যুদ্বাপরাধীর নাম ও তাদের কর্মকাণ্ডের কিছু তথ্য দেয়া হলো:

১. অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম: ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম রাজাকার পরিবারের সদস্য। তার বড় ভাই হাকিম হাফেজ আজিজুল ইসলাম নেজামে ইসলামি পার্টির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ছিলেন। পাক হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের শায়েস্তা করার জন্য তার নেতৃত্বেই ঢাকায় প্রথম শান্তি কমিটি গঠন হয়। একই সঙ্গে তিনি রাজাকার, আল বদর ও আল শাসম বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসই স্বাধীনতা বিরোধী কর্মকাণ্ড চালানোর পাশাপাশি মু্ক্তিযোদ্ধাদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বড় ভাইকে সার্বিক সহযোগিতা করেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় তার রাজাকার ভাইয়ের মালিকাধীন প্রিন্টিং প্রেসে তিনি ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। ১৯৬৯ সালে এ দেশে পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলন জোরদার হলে নেজামের ইসলাম পার্টির পক্ষ থেকে পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষার প্রচারণা চালানোর জন্য ‘নেজামে ইসলাম’ নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। হাকিম অজিজুল ইসলাম এ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। শেখ মজিবুর রহামনসহ পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলনকারীদের নিয়ে তিনি এ পত্রিকায় ‘ইবলিশের দিনলিপি’ নামে প্রতি সপ্তাহে বিশেষ সম্পাদকীয় লিখেন। অ্যাডভোকেট কামরুল ১৯৯৪ সালে আওয়ামী লীগের রাজনীতেতে সক্রিয় হন। এর মধ্যে দিয়ে রাজাকার

পরিবারের গন্ধ হতে মুক্ত হতে চান তিনি। তার ব্যাপারে ‌‌'মুক্তিযুদ্ধে ইসলামী দল' শীর্ষক বইয়ে বিস্তারিত উল্লেখ আছে।

২. লে.কর্ণেল (অব) ফারুক খান: পর্যটন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানীদের পক্ষে দিনাজপুরে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি পাকিস্তানী সেনাবাহীনীর পক্ষে প্রথম অপারেশন চালান এবং কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ও নিরীহ বাঙালিকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। সুত্র: “দিনাজপুরের মক্তিযুদ্ধ” বই।

৩. ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন: ফরিদপুর– ৩ আসনের সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেয়াই ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন কুখ্যাত রাজাকার ছিলেন। তিনি শান্তি বাহিনী গঠন করে মুক্তিযোদ্বাদের হত্যার জন্য হানাদার বাহিনীদের প্ররোচিত করেন। “ দৃশ্যপট একাত্তর: একুশ শতকের রাজনীতি ও আওয়ামী লীগ” বইয়ের ৪৫ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার বেয়াই ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন শান্তি কমিটির জাদরেল নেতা ছিলেন। তার পিতা নুরুল ইসলাম নুরু মিয়া ফরিদপুরের কুখ্যাত রাজাকার ছিলেন।

৪. অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন: ময়মনসিংহ ৬ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার ও

শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন বলে গত বছরের ৪ এপ্রিল ট্রাইবুনাল ওয়ার ক্রাইম ফাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহবায়ক ডা, এম এ হাসানের দেয়া যুদ্ধাপরাধের তালিকায় (ক্রমিক নং-৭৩) উল্লেখ করা হয়েছে। যা গত ২২ এপ্রিল দৈনিক ডেসটিনি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এ দিকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্বে গত ৬ এপ্রিল ফুলবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ও জোড়বাড়িয়া গ্রামের ওয়াহেদ আলী মণ্ডলের ছেলে মুক্তিযোদ্ধা জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে ময়মনসিংয়ের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিট্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন।

৫. সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী: আওয়মী লীগের সেকেন্ড ইন কমান্ড সংসদ উপনেতা ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পশ্চিম পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর কাছে একজন আস্থাভাজন নেত্রী ছিলেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচিতদের মধ্যে থেকে ৮৮ জনকে পাকিস্তানের সামরিক সরকার আস্থাভাজন এন এন এ মেম্বার অব ন্যাশনাল

এজেন্সী হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৭১ সালে ৭ আগষ্ট পাকিস্তানের তথ্য অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত ওই তালিকায় সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর নাম ছিল ৮৪ নম্বরে।

জেনারেল রোয়াদেদ খান ওই দিন ইসলামাবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তালিকা প্রকাশ করেন। পাকিস্তানের পক্ষে সমর্থন জানানো এবং মুক্তিযোদ্ধাদের

বিরুদ্ধে ভূমিকা পালন করার সুবাদে তিনি এ খ্যাতি অর্জন করেন বলে জানা গেছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত গেজেটে এ তথ্য উল্লেখ আছে।

৬. সৈয়দ জাফরউল্লাহ: আওয়ামী লীগের প্রেসেডিয়াম সদস্য সৈয়দ জাফরউল্লাহ মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষ হয়ে কাজ করেছেন। মাসিক “সহজকথা” আয়োজিত যুদ্ধাপরাধের বিচার:বর্তমান প্রেক্ষাপট শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য

দিতে গিয়ে কাদের সিদ্দিকী বলেন, আওয়ামী লীগের বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ জাফরঊল্লাহ মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন। জাফর উল্লাহ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানীদের পূর্ণ সমর্থন দেন। “মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান ” বইয়ে বিস্তারিত উল্লেখ আছে।

৭. মুসা বিন শমসের: গত বছরের ২১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষোভ প্রকাশ করে ফরিদপুরের নেতাদের কাছে প্রশ্ন করেন, শেখ সেলিম যে তার ছেলেকে ফরিদপুরের রাজাকার মুসা বিন শমসেরর মেয়ে বিয়ে করিয়েছেন তার কথা কেউ

বলছেন না কেন? এ খবর ২২ এপ্রিল আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। উল্লেখ্য, মুসা বিন শমসের গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ছেলের বেয়াই। ওয়ার ক্রাইম ফ্যাক্টস ফাইডিং কমিটির আহবায়ক ডা: এম এ হাসান যুদ্ধাপরাধী হিসেবে ৩০৭ জনের নাম উল্লেখ করেছেন। সেখানে ফরিদপুর জেলায় গণহত্যাকারী হিসেবে মুসা বিন শমসের নাম রয়েছে। তিনি নিরীহ বাঙ্গালীদের গণহত্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং মুক্তিযোদ্দ্ধাদের হত্যাসহ নির্মম নির্যাতন করেছেন বলে জানা গেছে।

৮. মির্জা গোলাম কাশেম: জামালপুর–৩ আসনের সংসদ সদস্য, যুবলীগের লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সরকার দলীয় হুইপ মির্জা গোলাম আযমের বাবা। ১৯৭১ সালে মির্জা কাশেম জামালপুরের মাদারগঞ্জে শান্তি কমিটির জাদরেল নেতা ছিলেন। তিনি রাজাকার, আল-বদরদের গঠন করে মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেন। তার বিরুদ্ধে

নারী ধর্ষণ ও লুটপাটের একাধিক অভিযোগ আছে। যা “জামালপুরের মুক্তিযুদ্ধ ( “১৯৮১ সালের সংস্বকরণ” বইয়ে উল্লেখ আছে। মির্জা কাশেম জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন। প্রিয় নেতার নামানুসারে ছেলের নাম রাখেন মির্জা গোলাম আযাম।

৯. এইচ এন আশিকুর রহমান: রংপুর ৫ আসনের সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক এইচ এন আশিকুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ হতে ১৬

ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তার সরকারের অধীনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে টাঙ্গাইলে কর্মরত ছিলেন। এ সময় তিনি পাকিস্তান সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করেন। এস এস এম শামছুল আরেফিন রচিত ‘

মুক্তিযুদ্বের প্রেক্ষাপট ব্যক্তির অবস্থান’ বইয়ের ৩৫০ পৃষ্টায় পূর্ব

পাকিস্তানে কর্মরত বাঙালি অফিসারদের তালিকায় তার নাম প্রকাশিত হয়েছে। ৯ জানুয়ারি রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে বলেন, রাজাকার আশিকুর রহমান আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ বলে তার বিচার করবেন না তা হয় না। আমরা সব রাজাকারের বিচার চাই। মন্ত্রীসভায় রাজাকার রেখে রাজাকারের বিচার করা যায় না।

১০. মহিউদ্দিন খান আলমগীর: চাদপুর-১ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ হতে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ময়মনসিংহে অতিরিক্তি জেলা প্রশারক পদে কর্মরত ছিলেন।

তিনি পাকিস্তান সরকারের অধীনে চাকরি করে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানকে সহযোগিতা করেছেন। তার বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে। এ সময় আরেফিন রচিত “মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান বইয়ের ৩৫০ পৃষ্ঠার মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানের কর্মরত বাঙালি অফিসারদের তালিকা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। তাকে চিহ্নিত রাজাকার হিসেবে আখ্যা দিয়ে গত ৯ ফেব্রুয়ারি তার বিচার দাবি করেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।

১১. মাওলানা নুরুল ইসলাম: জামালপুরের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মাওলানা নুরুল ইসলাম ১৯৭১ সালে জামালপুর সরিষা বাড়ী এলাকার রাজাকার কমান্ডার ছিলেন। তার নেতৃত্বে রাজাকাররা ঐ এলাকায় মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী সকল কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। “ দৃশ্যপট এক্ত্তার: একুশ শতকের রাজনীতি ও আওয়ামী লীগ” গ্রন্থের ৪৫ পৃষ্ঠায় এর বিবরণ দেয়া আছে। এ ছাড়া গত ২৮ এগ্রিল দৈনিক আমাদের সময় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে মাওলানা নুরুল ইসলামকে সরিষাবাড়ি এলাকার রাজাকার কমান্ডার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

১২. মজিবর রহামান হাওলাদার: কুটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান হাওলাদার সশস্ত্র রাজাকার ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন এলাকায়

বসতবাড়ীতে অগ্নিকাণ্ড ঘটানোসহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িত ছিলেন তিনি। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া ইউনিট কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার মজিবুল হক স্বাক্ষরিত গোপালগঞ্জের যুদ্ধাপরাধীর তালিকায় তার নাম ১ নম্বরে । এ তালিকা প্রকাশ করা হয় ২০০৮ সালের ১ আগষ্ট। দ্বিতীয় বার গত ১ এপ্রিল যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে সে তালিকায়ও যুদ্বাপরাধী হিসেব তার নাম আছে।

১৩. আবদুল বারেক হাওলাদার: গোপালগঞ্জ কোটালীপাড়া উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী রাফেজা বেগমের পিতা আবদুল বারেক হাওলাদার ৭১ এ দালাল

ছিলেন। গোপালগঞ্জের কোটলীপাড়া ইউনিট কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার মজিবুল হক স্বাক্ষরিত গোপালগঞ্জের যুদ্বপরাধীর তালিকায় তার নাম ৪১ নম্বরে। এ তালিকা প্রকাশ করা হয় ২০০৮ সালের ১ আগষ্ট । দ্বিতীয় বার গত ১ এপ্রিল যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে সে তালিকাতেও তার নাম আছে। বারেক হাওলাদার মুক্তিযুদ্ধের সময় নারী নির্যাতনের সাথে জড়িত ছিলেন।

১৪. আজিজুল হক: গোপালগঞ্জ কোটালীপাড়া উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী রাফেজা বেগমের ভাই আজিজুল হক কুখ্যাত রাজাকার ছিলেন। গোপালগঞ্জের

কোটলীপাড়া ইউনিট কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার মজিবুল হক স্বাক্ষরিত গোপালগঞ্জের যুদ্বপরাধীর তালিকায় তার নাম ৪৯ নম্বরে। এ তালিকা প্রকাশ করা হয় ২০০৮ সালের ১ আগষ্ট। দ্বিতীয় বার গত ১ এপ্রিল যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে সেখানেও তার নাম রয়েছে।

১৫. মালেক দাড়িয়া: আওয়ামী লীগ নেতা ও গোপালগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আবুল কালাম দাড়িয়ার বাবা মালেক দাড়িয়া কুখ্যাত রাজাকার ছিলেন। তিনি ছিলেন আল বদরের একনিষ্ঠ সহযোগী। গণহত্যায় নেতৃত্ব দেন তিনি। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া ইউনিট কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার মজিবুল হক স্বক্ষরিত গোপালগঞ্জের যুদ্বাপরাধীর তালিকায় তার নাম ১৪০ নম্বরে। তালিকা প্রকাশ করা হয় ২০০৮ সালের ১ আগষ্ট।

১৬. মোহন মিয়া: গোপালগঞ্জ কোটারিপাড়া উপজেলা শ্রমিকলীগ সভাপতি আমির হোসেনের পিতা মোহন মিয়া মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের দালাল ও রাজাকার

ছিলেন। স্থানীয় মু্ক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি লুটপাট করে অগ্নিসংযোগ করেছেন। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া ইউনিট কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার মজিবুল হক স্বাক্ষরিত গোপালগঞ্জের যুদ্ধাপরাধীদের তালিকায় তার নাম ছিল ১৫৭ নম্বরে।

১৭. মুন্সি রজ্জব আলী দাড়িয়া: উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া দাড়িয়ার বাবা মুন্সি রজ্জব আলী দাড়িয়া রাজাকার ছিলেন। যুদ্বাপরাধীর তালিকায় তার নাম আছে। তিনি পাকিস্তানীদের গুপ্তচর হিসেবে কাজ

করতেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কর্মকাণ্ডের গোপন খবর পাকবাহিনীকে পৌঁছে দিতেন।

১৮. রেজাউল হাওলাদারঃ কোটালিপাড়া পৌর মেয়র ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এইচ এম অহেদুল ইসলামের ভগ্নিপতি রেজাউল হাওলাদের নাম ২০৩ জন রাজাকার, আল বদর, আলশামসসহ গত ১ এপ্রিল প্রকাশিত কোটালিপাড়ার যুদ্বাপরাধীর তালিকায় রয়েছে। তিনি আল বদর সদস্য হিসেব স্থানীয় মু্ক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন।

১৯. বাহাদুর হাজরাঃ কোটালিপাড়া স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও পৌর মেয়র এইচ এম অহেদুল ইসলামের পিতা বাহাদুর হাজরার নাম গত ১ এপ্রিল প্রকাশিত কোটালিপাড়ার যুদ্ধাপরাধীর তালিকায় রয়েছে। তিনি একজন সক্রিয় রাজাকার ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যাসহ নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন।

২০. আ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন সরদারঃ গোপালগঞ্জের এ পি পি ও আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন সরদারের নাম গত ১ এপ্রিল প্রকাশিত কোটালিপাড়ার যুদ্বাপরাধীর তালিকায় রয়েছে। তিনি পাকিস্তানীদের দোসর ও আল বদর বাহিনীর সহযোগী ছিলেন। আল বদর বাহিনীর সকল ধরনের কর্মকাণ্ডে অংশ গ্রহণ করতেন তিনি।

২১. হাসেম সরদার: অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন সরদারের পিতা হাসেম সরদারের নাম কোটালীপাড়ার যুদ্ধাপরাধীর তালিকায় রয়েছে। তিনি একজন রাজাকার ছিলেন। ৭১ সালে তার নেতৃত্বে অনেক সাধারণ বাঙালির বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল।

২২. আবদুল কাইয়ুম মুন্সি: জামালপুর বকশিগঞ্জ আওয়ামী লীগ সভাপতি অবুল কালাম আজাদের পিতা আবদুল কাইয়ুম মুন্সীর বিরুদ্বে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী বাহিনীকে সহয়তা ও মুক্তিযোদ্বাদের হত্যাসহ অগ্নিসংযোগের অভিযোগে গত ৬ এপ্রিল জামালপুর আমলি আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মালিচর নয়াপাড়া গ্রামের সিদ্দিক আলী এ মামলা দায়ের করেন। আবদুল কাউয়ুম মুন্সী পাকিস্তানী বংশোদ্ভুত বলে জানা গেছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে আবদুল কাউয়ুম মুন্সী পাক হানাদার বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য বকশিগঞ্জে আল বদর বাহিনী গড়ে তুলতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পাক বাহিনীর

সাথে থেকে অনেক মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেন।

২৩. নুরুল ইসলাম-নুরু মিয়া: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেয়াই ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পিতা নুরুল ইসলাম নূরু মিয়া ফরিদপুরের কুখ্যাত রাজাকার ছিলেন। গত ২১ এপ্রিল ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেন। এ সময় তারা মন্ত্রী ও তার ভাই খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবরের বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, তার বাবা নূরু মিয়া মু্ক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকর ছিলেন। এর উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফরিদপুরের রাজাকারের তালিকায় ১৪ নম্বরে নুরু মিয়ার নাম থাকলেও তিনি যুদ্বাপরাধী ছিলেন না। পরের দিন ২২ এপ্রিল আমার দেশ পত্রিকায় এ খবরটি প্রকাশিত হয়। নুরু মিয়ার অপকর্মের বিষয়ে ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির

অবস্থান’ বইয়ে বিস্তারিত বলা আছে। জানা যায়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জন প্রতিনিধি হয়েও আওয়ামী লীগের ২৭ নেতা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে ছিলেন। তারা কেউ ছিলেন (এম এন এ) জাতীয় পরিষদ সদস্য, আবার কেউ ছিলেন (এম

পি এ) প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচিত সদস্য। মুক্তিযুদ্ধে তারা হানাদার বাহিনীকে সব ধরনের সহযোগিতা করেছেন। দেশের মুক্তিযোদ্বাদের হত্যা, নারী ধর্ষণ, লুটতরাজ এবং বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ সহ নানা ধনের মানবতা বিরোধী অপরাধের সাথেও তারা যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মুজিবনগরের সরকারের মন্ত্রী পরিষদ, যুদ্ধাপরাধের সংক্রান্ত কিছু বই থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এ সব নিয়ে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়। নিশ্চয়ই নিজের ঘর আওয়ামীলীগকে রাজাকার মুক্ত করতে আওয়ামীলীগের মধ্যে থাকা রাজাকারগুলোর বিচার করবে তারা। আর যদি না করে তাহলে আমরা ব্লগাররা সব সময় এদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলাম, আছি এবং থাকবো।

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

শাহবাগ এর রাজনৈতিক বিশ্লেষন (বাম বিরোধী)

সামু ব্লগারঃ সরলপাঠ


যুদ্ধাপরাধের বিচার এখন বাস্তবাতা। আমাদের দীর্ঘদিনের চাওয়ার বাস্তবায়ন। জামাত প্রথম থেকেই এর বিরোধীতা করে আসছে, আর কাদের মোল্লার রায়ের পর ট্রাইবুনালের পক্ষের একটি অংশ এর বিরোধিতা করছে যার নেতৃত্বে রয়েছে বাম দলীয় রাজনীতিকরা। আনেকটাই পরিকল্পিত ভাবেই তারা এর শুরু করে এবং নেতৃত্ব নিয়ে নেয়। প্রশ্ন হচ্ছে কেন তারা এই কাজটি করে, যেখানে তারাই সরকারের অংশ? কারা এটাকে অরগানাইজ করার সুযোগ করে দিয়েছে, এবং কেন? এর মাধ্যমে কে লাভবান হচ্ছে এবং কিভাবে? যুদ্ধাপারাধের বিচারের ভবিষ্যত কি? নিম্নে এ প্রশ্নগুলোর উত্তর জানার চেষ্টা করব:

কাদের মোল্লার বিচারের রায়ের পর এই ব্লগেই কয়েকজনকে আহবান করতে দেখি শাহবাগে যাওয়ার যাতে মনে হতে পারে এটা ব্লগীয় আন্দোলন, কিন্তু একই সময়ে ফেবুতে আমার প্রফেসনাল বন্ধুরাও তাদের ফেবুতে একই আহবান জানাতে থাকে যারা সবাই আওয়ামীলীগে আশ্রিত বামু। এই বামুরা যেখানে যায় সেখানেই সমস্যা তৈরি করে। প্রথমআলু সহ বামু পত্রিকাগুলো এবং নিউজ চ্যানেলগুলো লাইভ কাভারেজ দেয়ার দায়িত্ব পালন করে। পুরো আন্দোলনটিই বামুদের আগের হরতালের মত। সরকারী পৃষ্টপোষকতায় হরতাল পালন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এর মাধ্যমে কি এই বিচার ব্যবস্হা লাভবান হয়েছে না ক্ষতিগ্রস্হ হয়েছে? - আমার অভিমত ক্ষতিগ্রস্হ হয়েছে। কারণ জামাত প্রথম থেকেই এই বিচারকে সরকারের নিয়ন্ত্রিত বিচার বলে আসছে - যা ন্যায় বিচারের বিপরীত। তাই তারা বলত এই ট্রাইবুনাল বিতর্কিত। আজ আমরাই সেই দাবিকে প্রতিষ্ঠা করলাম। ট্রাইবুনালের রায় নিয়ে সমালোচনা এবং আন্দোলন করে আমরা আমাদের ট্রাইবুনালকে বির্তিকিত করলাম। আগামীতে আর কাউকে ফাঁসি দিলেও সেই রায় বির্তিকত হবে। সাময়িক আবেগের কাছে ন্যায় বিচার পরাজিত হবে। জামাত সাময়িক সমস্যায় পড়লেও সামগ্রিকভাবে তারা গণমানুষের সহমর্মিতা পাবে। আর লাভবান হবে এই বামুরা, কারণ জামাত তাদের রাজনীতিক আদর্শের প্রতিপক্ষ। ফলে এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে তারা জামাত বিরোধী মানুষদেরকে তাদের আরও কাছে নিয়ে আসতে পারবে। 

প্রশ্ন হচ্ছে আওয়ামীলীগ কি লাভবান হল না ক্ষতিগ্রস্হ হল? - আমার অভিমত সার্বিক বিচারে আওয়ামীলীগ ক্ষতিগ্রস্হ হয়েছে - ১) যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আওয়ামীলীগের দাবী - এর রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়া রয়েছে। এই আন্দোলন আওয়ামীলীগের রাজনীতিক এবং সামাজিক প্রভাব খর্ব করবে। ২) আওয়ামীলীগ সাময়িক লাভবান হলেও (মানুষকে সরকারের রাজনৈতিক দূর্বলতাগুলো সাময়িক ভুলিয়ে রাখা গেলেও) দীর্ঘমেয়াদে রাজনীতি সরকারের হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। ৩) এই আন্দোলনের ফলে সম্ভবত বিএনপি একই ভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলন করতে পারে। যার সামগ্রিক ইংগিত এখনই দেখা দিতে শুরু করেছে। এবং এ অবস্হায় বাধা দেয়ার নৈতিক অধিকারটুকু সরকারের থাকবেনা। ৪) আওয়ামীলিগ বিএনপির বিরুদ্ধে জামাতকে আশ্রয় দেয়ার যে অভিযোগ তুলত, সেই রাজনীতিক সুবিধাটুকু আওয়ামীলীগ হারাল। কারণ এই আন্দোলনকারিরা বলছে এটা সমাঝোতার রায়। এ ক্ষেত্রে আওয়ামীলীগের বা ট্রাইবুনলের সাথে সংশ্লিষ্ট সবার উচিত ছিল রায়ের সম্মান রক্ষা করা, যা তারা করতে ব্যার্থ হল। 

মোটের উপর ট্রাইবুনালের রায়ের সমালোচনা করে বামুরা সাময়িক লাভবান হলেও এর মাধ্যমে পুরো বিচার ক্ষতিগ্রস্হ হয়েছে। 


আমি যতটুকু লক্ষ্য করেছি এই আন্দোলন একটি অপরিকল্পিত ছকের পরিকল্পিত ফসল। বাম রাজনীতির ছাত্র সংঘটনগুলো এর নেতৃত্বে রয়েছে। অন্য ছাত্র সংগঠনগুলো সেখানে পরে উপসস্হিত হলেও তারা নেতৃত্ব নিতে পারেনি, শুধু সহযোগী হিসাবেই আছে। আর বাম নেতারা পিছন থেকে কলকাঠি নাড়ছেন। সরকার যেখানে জামাতকে নিষিদ্ধ করা বা এ বিষয়ে কোন চিন্তা ভাবনা করছেনা সেখানে ইনু এসে বলে জামাতকে নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে - এ সবই বামুদের রাজনীতিক চাল। তবে এখানে আমি কিছু মৌলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করলেও এখন অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়নি। শুধু মনে ব্যাথা পাচ্ছি এ জন্যে যে একটি সামগ্রিক বিচারকে সম্ভবত আমরা হত্যা করলাম। এই বামুরাই স্কাইপ কেলেংকারীর সাথে জড়িত ছিল আবার এখন তারাই এই বিচারকে হত্যা করছে। জামাত আর বাম এদের জন্যে শুধুই ঘৃনা। কেউ কি আমায় বলতে পারেন শাহবাগের মোড়ে ধর্মীয় রাজনীতির দাবী কেন উঠে - জামাতই কি বাংলাদেশে একমাত্র ধর্মীয় রাজনীতি করে? তাহলে কাদেরের ফাঁসির দাবী করতে গিয়ে আমরা ধর্মকে কেন প্রতিপক্ষ বানালাম? হাঁ বামরাই সবসময় ধর্মকে প্রতিপক্ষ করে। 

আমি সরকারের নিকট দাবী জানাব এই বামদের এখনই দমন করার জন্য যেভাবে জামাত শিবির রাজাকারদের দমন করা হচ্ছে। আর ট্রাইবুনালকে সকল বিতর্কের উর্ধ্বে রাখার জন্যে।

থাবা বাবা ও আমার অনুভূতি

সামু ব্লগারঃ

শীমুল শরীফ


প্রথমেই বলে রাখি আমার এ পোস্টটি কারো ধর্মীয় অনুভূতি বা দেশ প্রেমে আঘাত করার জন্য নয়। কোন উন্নত মস্তিস্কের কেউ যদি এর ভেতর কোন দৈত অর্থ পান তবে তা তার নিজ দায়িত্বে খুজঁবেন।

যেকোন মৃত্যুই দুঃখ্যের, বেদনার। আর সে মৃত্যু যদি হয় অকালে তবে তা আরো কষ্টের। আমি থাবা বাবার প্রয়াণে তার শোকাহত পরিবারকে জানাই সমবেদনা।

কর্মব্যস্ততার কারনে ইদানিং পোস্ট করা হয়না। কিন্তু ব্লগে নিয়োমিত আসি এবং পড়ি। আজ সকালে থাবা বাবার প্রয়াণের খবর পেয়ে তার লেখাগুলো সব পড়লাম। উনি ব্লগ লিখছেন ৩ বছর ৩ মাস ধরে। এ সময় ধরে তিনি লিখেছেন মাত্র ১১টি। যা সময়ের হিসাবে কম। অর্থাৎ তিনি নিয়মিত ব্লগার ছিলেন না। আমার কথা নয় পরিসংখ্যান বলছে। সময় অনুপাতে তিনি মন্তব্যও করেছেন অনেক কম। তাকে বিভিন্ন ব্লগার যেভাবে নাস্তিক উপাধিতে ভূষিত করে গালিগালাজ করছে, থাবা বাবার লেখার ভেতর আমি সে রকম কোন কিছু পেলাম না। হতে পারে আমার অজ্ঞতা। খুজে খুজে কিছু মন্তব্যও পড়লাম। কিন্তু দেখলাম নাস্তিক্যের বিচারে সে খুবই নিচু অবস্থানে ছিল। তারচেয়ে অনেক বড় বড় গোড়া নাস্তিক এখনো বহাল তবিয়াতে আছে। নাস্তিক হওয়ার করনে এসব বড় বড় নাসিতকরা যদি খুনের শিকার না হন তবে থাবা বাবার খুন হওয়ার কথা না। এটাই সাধারণ যুক্তি।

তবে কেন খুন হলেন? এর উত্তর দেয়ার আমি কেউ না। তাই এ বিষয়ে আলোচনা করবো না। আমার বক্তব্য হলো, যে কোন বিষয় সীমার ভেতর থাকা উচিত। সভ্যতা আমাদের তাই শিক্ষা দেয়। ইদানিং ব্লগে আসলে দেখা যায় শুধুই কাদা ছোড়া ছুড়ি। কিছু ধর্মান্ধ ও কিছু ধর্ম বিদ্যেশি একটি গ্রুপ আর একটি গ্রুপের পেছনে লেগে আছে। মজার বিষয় হলো দু'টি গ্রুপই নিজেদের খুবই সভ্য হিসাবে প্রমান করতে চায়। আমার কথা হলো আপনি যদি আপনার ভেতরের পশুকে দমন করতে না পারেন তবে কোন সভ্যতার বড়াই করেন। কি করে নিজেকে সভ্য দাবি করেন?

একজন মানুষ যখন মৃত্যু বরণ করে তখন গ্রামের একজন অশিক্ষত মানুষও তো মৃতের সব অপরাধ ক্ষমা করে দেয়। অথচ সামু একটি ব্লগ যেখানে শিক্ষত মানুষের মিলন মেলা সেখানে একজন সহব্লগারের মৃত্যুতে কিছু ব্লগার যে ধরনের উল্লাশ প্রকাশ করছে তা কোন সভ্য বা কোন ধার্মীকতার প্রকাশ আমি বুঝিনা। আমার খুবই লজ্জা লাগে।

ব্লগের যারা মডারেটরের ভূমিকায় আছেন তাদের উচিত অংকুরেই এ ধরনের অসভ্যতার রাস টেনে ধরা। অন্যথায় সেদিন বেশি দুরে নয়, যেদিন এই ব্লগেই ঠাই করে নেবে মৃত্যুর উল্লাস। ধার্মিকরা মরবে নাস্তিকরা উল্লাস করবে, বা নাস্তিকরা মরবে ধার্মিকরা উল্লাস করবে। সব করতে পারার নাম গনতন্ত্র নয়। কোন কাজ করার আগে অন্যের স্বার্থ দেখাই গনতন্ত্র।

আমার একজনকে ভাললাগেনা বলে আমি তাকে আমার ইচ্ছামতো গালমন্দ করার অধিকার রাখিনা। এটাই সভ্যতা আমাদের শেখায়, গণতন্ত্রও আমাদের এটাই শেখায়। একথা সবার জন্য। আমি কারো দর্শন পছন্দ করিনা বলে তাকে যা ইচ্ছা তাই বলতে পারিনা। আবার আমি ধর্ম মানি না বলে যারা ধর্ম মানে তাদের অনুভূতিতে আঘাত করতে পরি না। 

যারা এ কাজ করে তরা যেমন দোষী তেমনি সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে যারা এ অপরাধ করার জন্য সহযোগিতা করে তারাও সমান দোষী। অতএব, এই ব্লগের যারা মডারেটর তাদের উচিত নেংরামী বন্ধে কঠোর হওয়া। নয়তো দায় এড়ানো যাবে না।

আজকে যদি থাবা বাবার খুন ব্লগ লেখার কারনে হয়ে থাকে তবে সে খুনের দায় সামান্যতম হলেও সামুর কাঁধে যায়। কারন তার ব্লগিং এর প্লাটর্ফম ছিল সামু। এ মৃত্যু ঠেকাতে সামু কি কোন পদক্ষেপ নিয়েছিল? সে কি রাস টেনেছিল? আজ যুক্তি দিয়ে অনেক দায় এড়াতে পারবেন। কিন্তু বিবেকের দায় কিভাবে এড়াবেন?

এখনো সময় আছে নোংরামী বন্ধে জোরালো পদক্ষেপ নিন। পক্ষপাতিত্ব বা উস্কানিতে সহযোগিতা নয়; নিরোপেক্ষ অবস্থান নিন। এর সাথে আপনাদের বানিজ্যিক ভাবমূর্তিও জড়িত।

সব শেষে থাবা বাবার খুনের তীব্র নিন্দা জানাই। খুনিদের পাকড়াও ও দ্রুত বিচার চাই। সেই সাথে মৃতের আত্মার জন্য শান্তি কামনা করে সবাইকে জানাজায় অংশগ্রহণের আহ্বন জানাচ্ছি।

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে একাধিক দল থাকতে পারে : জিয়া


৩০ শে মে, ২০১২ সকাল ১০:০৯

[মহান জাতীয় ঐক্যের তাগিদে, সার্বিক জাতীয় উন্নয়নের জন্য যাতে জাতীয় কর্মসূচিগুলি দ্রুতগতিতে বাস্তবায়ন করা যায় তার জন্য প্রয়োজন সংগঠন অর্থাত্ জনসমষ্টি, সে উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে একটি ব্যাপকভিত্তিক নতুন জাতীয় দল—‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল’ (বিএনপি) গঠিত হয়। ১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ রমনা গ্রীনে এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে জিয়াউর রহমান তাঁর দল গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। তখন ছিল পবিত্র মাহে রমজান মাস। ইফতারের পূর্বে দলের কাঠামো ও ঘোষণাপত্র উপস্থাপন করেন, পরে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। প্রায় এক ঘণ্টাকাল এই প্রশ্নোত্তর পর্ব স্থায়ী হয়। নিম্নে ঐতিহাসিক সাক্ষাত্কারটি হুবহু তুলে ধরা হলো]
দৈনিক বাংলা : দেশে বহু দল থাকুক, আপনি কি তা চান?
জিয়াউর রহমান : গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একাধিক রাজনৈতিক দল থাকতে পারে। তবে, রাজনৈতিক দলের সংখ্যা বেশি হলে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি হয়।
দৈনিক বাংলা : দেশে ক’টি রাজনৈতিক দল থাকা উচিত বলে আপনি মনে করেন?
জিয়াউর রহমান : আপনারাই বলে দিন।
দৈনিক বাংলা : আপনার অনুপ্রেরণায় জাগদল হয়েছিল, আপনার অনুপ্রেরণায় জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট হয়েছিল। তারপর আবার নতুন দল করলেন কেন?
জিয়াউর রহমান : নির্বাচনের পর আমরা বেশ কয়েকবার আলাপ-আলোচনা করেছি। তারপর একটা ব্যাপকভিত্তিক রাজনৈতিক দল গঠন করাই শ্রেয় মনে করলাম, যাতে জাতীয় উন্নয়ন কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়।
দৈনিক বাংলা : আপনার দল বামপন্থী না ডানপন্থী?
জিয়াউর রহমান : যারা ডান-বাম, তারাই তাদের মত ব্যাখ্যা দিতে পারেন। আমরা দল করেছি জাতীয় উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে; আমরা কাজ চাই, উন্নতি চাই। সর্বাধিক সংখ্যক লোক দলে এনে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়তে চাই।
দৈনিক বাংলা : বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা মার্কিন শান্তি বাহিনীর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রতিবাদ করেছেন। একটি রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কি?
জিয়াউর রহমান : অনেকেই চুক্তি স্বাক্ষরের একটা ভিন্নরূপ দিতে চেষ্টা করেছেন। শান্তি বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের টেকনিক্যাল স্কিমের অন্তর্ভুক্ত একটি সংস্থা। এরা বাংলাদেশে আমাদের ইচ্ছানুযায়ী কাজ করবেন। আসার পর এদের কাজ পছন্দ না হলে তখন ব্যবস্থা করা যাবে।
দৈনিক বাংলা : শেখ মুজিবের সময় সোভিয়েতের সঙ্গেও অনুরূপ অনেক চুক্তি হয়েছিল। পরে তাদের জন্য কাজও করতে দেখা গেছে। এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কি?
জিয়াউর রহমান : তখনকার সেসব চুক্তির সঙ্গে শান্তি বাহিনীর তুলনা করা ঠিক হবে না। এটা সম্পূর্ণভাবেই টেকনিক্যাল স্কিমের অন্তর্ভুক্ত।
দৈনিক বাংলা : আপনাদের নতুন দলে কারা যোগদান করছেন?
জিয়াউর রহমান : ফ্রন্টে যারা আছেন, তাদের কথা তো জানেন। এছাড়া অনেকে কথা বলেছেন, দল বা গ্রুপ হিসেবে। ব্যক্তিগতভাবেও অনেকে আলোচনা করেছেন।
দৈনিক বাংলা : ফ্রন্টের একটি দল বিবৃতি দিয়ে আপনার দলে যোগদানের কথা জানিয়েছেন। অন্য দলগুলোর সঙ্গেও আপনার এরকম কোন চুক্তি হয়েছে কি-না?
জিয়াউর রহমান : না।
দৈনিক বাংলা : জাগদল এবং ফ্রন্টের অস্তিত্ব কি এখন থেকে বিলুপ্ত হলো?
জিয়াউর রহমান : দেখুন কয়েকদিন।
দৈনিক বাংলা : মন্ত্রীরা সবাই কি আপনার দলে যোগদান করবেন এবং মন্ত্রিপরিষদে কি কোনো রদবদল হবে?
জিয়াউর রহমান : সে রকম কোনো চিন্তা-ভাবনা এখনও নেই।
দৈনিক বাংলা : বাকশালী নেতাদের কি আপনার দলে নেবেন?
জিয়াউর রহমান : না।
দৈনিক বাংলা : সামরিক আইন কবে তুলে নেবেন?
জিয়াউর রহমান : পর্যায়ক্রমে তুলে নিচ্ছি।
দৈনিক বাংলা : পিপিআর?
জিয়াউর রহমান : ক্রমান্বয়ে উঠিয়ে নেয়া হবে। আগামীতে দেখতে পাবেন।
দৈনিক বাংলা : আপনার দল আধিপত্যবাদ ও সম্প্রসারণের বিস্তার রোধের জন্যে কাজ করবে বলে ঘোষণাপত্রে লেখা হয়েছে। বাংলাদেশের উপর এখনও কি আধিপত্যবাদ ও সম্প্রসারণবাদের প্রভাব রয়েছে?
জিয়াউর রহমান : ভবিষ্যতে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা হতে পারে। এ জন্যেই লিখেছি।
দৈনিক বাংলা : ক্ষমতাসীন দলে যোগদানের হিড়িক অতীতে দেখা গেছে। আপনার দলেও অনুরূপভাবে যোগদানের হিড়িক পড়লে কি করবেন?
জিয়াউর রহমান : কারা দলে আসতে পারবেন, কারা পারবেন না, তা বলা হয়েছে। আপনারা এ ব্যাপারে সাহায্য করবেন।

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা
দৈনিক বাংলা : সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও স্বাধিকার সম্পর্কে আপনার দলের বক্তব্য কি?
জিয়াউর রহমান : সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও অধিকার মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত।
দৈনিক বাংলা : আপনি সেনাবাহিনীর আইন সংশোধন করে সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। সেনাবাহিনীর প্রধান থাকা অবস্থায়ই আবার নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করলেন। এভাবে আপনি কি সমস্ত সেনাবাহিনীকে রাজনীতিতে জড়িয়ে ফেলছেন না?
জিয়াউর রহমান : আমি সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করিনি, তাছাড়া আমি এখন সেনাবাহিনীর প্রধান নই। প্রেসিডেন্ট হিসেবে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক।
দৈনিক বাংলা : একটি রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে আপনি কি রাজবন্দিদের মুক্তির দাবি জানাবেন?
জিয়াউর রহমান : গত দু’বছরে দশ-বারো হাজার রাজবন্দিকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে কোন ফৌজদারি অভিযোগ নেই, পর্যায়ক্রমে তারা মুক্তি পাবেন বলে আশা করি।
দৈনিক বাংলা : সামরিক আইনে যাদের সাজা হয়েছে তাদের আপিলের সুযোগ দেয়ার দাবি উঠেছে। এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কি?
জিয়াউর রহমান : এ ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করছি।
দৈনিক বাংলা : বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কি?
জিয়াউর রহমান : পরিস্থিতি ঠিক করে আনার চেষ্টা করছি।
দৈনিক বাংলা : বাংলাদেশ ব্যাংকের ধর্মঘটি কর্মচারীদের অনেকের বাড়িতে পুলিশ তালা লাগিয়ে দিয়েছে, অনেকের আসবাবপত্র আটক করেছে। এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কি?
জিয়াউর রহমান : এ ব্যাপারে তদন্ত হচ্ছে।
দৈনিক বাংলা : ’৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্ন অপারেশনের জন্য অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে এখন খুনের মামলায় জড়ানো হচ্ছে। এ ব্যাপারে আপনার কি বক্তব্য?
জিয়াউর রহমান : দু’একটা ঘটনা কানে এসেছে। আমরা ব্যাপারটা দেখছি।
দৈনিক বাংলা : আপনার একজন মন্ত্রী বাকশালী আমলের হত্যাকাণ্ড ও বেআইনি সম্পত্তি অর্জনের বিচার এবং বাকশাল মনোভাবাপন্ন আমলাদের অপসারণ দাবি করেছেন। এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কি?
জিয়াউর রহমান : এ ব্যাপারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
দৈনিক বাংলা : বাকশালী আমলের নেতাদের সম্পত্তির হিসাব চাওয়া হয়েছিল। এ ব্যাপারে অগ্রগতি কতটুকু?
জিয়াউর রহমান : এদের সম্পত্তির হিসাব জানার জন্য জনগণের পক্ষ থেকে দাবি উঠেছিল। প্রায় সবাই হিসাব দিয়েছেন। দু’একজন বাকি আছেন। এদের দেয়া হিসাব এদের সম্পত্তির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।
দৈনিক বাংলা : রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণের জন্যে জাগদল করা হয়েছিল, রাজনৈতিক শূন্যতা দূর করার জন্য ফ্রন্ট করা হয়েছিল। এবারও কি সেই রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণের জন্যেই নতুন দল করা হল?
জিয়াউর রহমান : রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণের কথা আমি কোথাও বলিনি।
দৈনিক বাংলা : একেকটি রাজনৈতিক দল ভেঙে দু-তিন টুকরো হচ্ছে। একই নামে কয়েকটি করে রাজনৈতিক দল আছে। এ সম্পর্কে আপনার মতামত কি?
জিয়াউর রহমান : কোনো কোনো দল তো চার টুকরোও হচ্ছে।
দৈনিক বাংলা : আওয়ামী লীগের মিজান গ্রুপের সঙ্গে আপনার নতুন দল সম্পর্কে কি আলোচনা হয়েছে?
জিয়াউর রহমান : না।
দৈনিক বাংলা : আপনার সরকারকে কি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সরকার বলা যায়?
জিয়াউর রহমান : দেখুন। অপেক্ষা করুন।
দৈনিক বাংলা : সংসদ নির্বাচনের তারিখ কবে ঘোষণা করবেন?
জিয়াউর রহমান : ডিসেম্বরেই নির্বাচন হবে। তারিখের কথা ভাবছি।
দৈনিক বাংলা : সংসদের আসন সংখ্যা কি বাড়ানো হবে?
জিয়াউর রহমান : আপাতত না।
দৈনিক বাংলা : সংসদ সংসদীয় পদ্ধতির সরকার দাবি করলে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে তখন আপনার অবস্থা কি হবে?
জিয়াউর রহমান : আইন অনুসারে যা হবে, তাই মেনে নেব।
দৈনিক বাংলা : ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত’ বাংলাদেশের কম্যুনিস্ট পার্টি কি করে প্রকাশ্যে বক্তৃতা-বিবৃতি দিচ্ছে?
জিয়াউর রহমান : এটা আমার জানা নেই।
দৈনিক বাংলা : শেখ মুজিবের সম্মান পুনঃপ্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আপনার মতামত কি? বঙ্গভবনে শেখের ছবি আছে। কিন্তু রাস্তার ছবি পুলিশ ছিঁড়ে ফেলে। এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কি?
জিয়াউর রহমান : কোথায়, কবে, কোন পুলিশ ছবি ছিঁড়েছে? আমি তো কিছুদিন আগেও পোস্টারে তাঁর ছবি দেখেছি।
দৈনিক বাংলা : রাজশাহীর বন্যার পেছনে ফারাক্কার কোনো প্রভাব আছে কি?
জিয়াউর রহমান : ভারতের উত্তরাঞ্চলে যথেষ্ট বন্যা-বৃষ্টি হয়েছে। সেই পানিই নেমেছে।
দৈনিক বাংলা : স্বাধীনতার পর পাকিস্তানি সৈন্যদের পরিত্যক্ত বিপুল অস্ত্রশস্ত্র ভারতীয় সৈন্যরা নিয়ে গেছে। অতীত সরকারের কাছে এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কি?
জিয়াউর রহমান : বেশ কিছু পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র ফেরত আনা হয়েছে, যা কিছু বাকি আছে, তা ফেরত আনার চেষ্টা চলছে।
দৈনিক বাংলা : পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে অস্ত্র সংগ্রহের প্রতিযোগিতা চলছে। এই পরিস্থিতিতে আমাদের মত ছোট দেশের অবস্থা কি?
জিয়াউর রহমান : আমরা আগের মতো দুর্বল নই। প্রতিরক্ষা বাহিনী গড়ে তুলছি। আশা করি, আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার হবে।
দৈনিক বাংলা : একটি নতুন রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে অন্য দলগুলোর প্রতি আপনার বাণী কী?
জিয়াউর রহমান : আসুন আমরা সবাই দেশের উন্নতি ও কল্যাণের জন্যে একসাথে কাজ করি।
[দৈনিক বাংলা-২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৮]

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অক্টোবর, ১৯৭৯ ফার-ইস্টার্ন ইকোনমিক রিভিউ-এর সংবাদদাতা রতনি টাস্কারকে এক সাক্ষাত্কার দেন। 
‘পরিস্থিতি আমাকে টেনে আনে’
—জিয়া
প্রেসিডেন্ট জিয়া ছিলেন সমুদ্রতটে আছড়ে পড়া সাগরের উত্তাল তরঙ্গের মতো প্রাণচঞ্চল, ‘তলাবিহীন ঝুড়িতে’ নতুন শস্য ঢেলে ঝুড়িটার তলা মেরামত করতে চেয়েছিলেন। তিনি দেশময় জাগিয়ে তুলেছিলেন কর্মোদ্যম এবং কর্মযোগের এক নবজাগরণ, কাজ-কাজ এই ছিল তাঁর ডাক। বর্ধিত উত্পাদন প্রয়াসকে তিনি সংযোজন করেছিলেন দেশের রাজনীতিতে। সেটার তিনি নাম দিয়েছিলেন উত্পাদনের রাজনীতি। এক কথায় যে যে বাস্তব সমস্যার সঙ্গে এদেশ প্রত্যহ মুখোমুখি হচ্ছে, সেগুলিকে চিহ্নিত করেছিলেন। ডাক দিয়েছিলেন বিপ্লবের। বলেছিলেন, এই বিপ্লব হবে শান্তিপূর্ণ। রাজনীতির ক্ষেত্রে ছিল না তাঁর কোনো আড়ষ্টতা। সাফল্য আর ব্যর্থতার খতিয়ান নয়, তাঁর উদ্যোগের পেছনে সক্রিয় নিষ্ঠা এবং সত্ প্রয়াসকে আজ সবাই অভিনন্দন জানাচ্ছে। বিশ্বের নেতৃস্থানীয় পত্র-পত্রিকায় আজ অবধি চলছে তারই স্বীকৃতি। 
১৯৭৯ সালের অক্টোবর মাসে ফার ইস্টার্ন ইকোনমিক রিভিউর প্রতিনিধি রতনি টাস্কার বাংলাদেশ সফর করেন এবং প্রেসিডেন্ট জিয়ার এক সাক্ষাত্কার নেন। সফর শেষে রতনি টাস্কার লেখেন যে, জিয়ার প্রধান সম্পদ হলো তাঁর ব্যক্তিগত সততা। সমালোচকরাও তাঁর সততা এবং নিষ্ঠা সম্পর্কে একমত। তাঁর পরিবারের সদস্য এবং আত্মীয়স্বজন কোথাও তাঁর নাম ভাঙিয়ে ব্যক্তিগত ফায়দা লুটের চেষ্টা করেছেন এমন কথা কেউ বলতে পারবে না। রতনি টাস্কার ফার ইস্টার্ন ইকোনমিক রিভিউতে ’৭৫ সালে পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং জিয়ার সূচিত রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ওপর মন্তব্যসূচক এক দীর্ঘ প্রতিবেদন তুলে ধরেন এবং এক অধ্যায়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সম্পদ প্রাপ্তির সম্ভাব্যতা নিয়েও দীর্ঘ আলোচনা করেন। নিম্নে প্রেসিডেন্ট জিয়ার সঙ্গে তাঁর কর্মসূচির ব্যাখ্যা সংবলিত গৃহীত সাক্ষাত্কারটি পত্রস্থ করা হল :
প্রশ্ন : মুজিবের পতনের পর আপনি একপর্যায়ে পূর্ণ ক্ষমতা গ্রহণ করে বলেছিলেন, সামরিক বাহিনী ও আপনি নিজে শিগগিরই ব্যারাকে ফিরে যাবেন এবং বেসামরিক প্রশাসনের পথ তৈরি করে দেবেন। এখন আপনি নেতা হিসেবে থেকে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখলেন কেন?
উত্তর : সে সময় (আগস্ট ১৯৭৫)—কি ঘটতে যাচ্ছে, প্রকৃতপক্ষে তা আমাদের জানা ছিল না। তখন আমি উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক। সময় গড়িয়ে পরিস্থিতি আমাকে টেনে আনে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উন্নতি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লক্ষ্য করলাম, এমন একটা কিছু যেন রয়েছে, যা আমাকে টেনে ধরছে। এরপর হয় গণভোট। এবং পরবর্তী পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করি। এরপর কয়েকটি দলকে একক দলে একীভূত করে (বিএনপি) পার্লামেন্ট নির্বাচন করি। এগিয়ে যাই। সামরিক আইন তুলে নেয়া হয়। দেশে এখন সম্পূর্ণ বেসামরিক সরকার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু হয়েছে।
প্রশ্ন : শাসনতন্ত্রের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে গণতন্ত্রের পরিবর্তে সামরিক আইন বলে গৃহীত ব্যবস্থা সমূহকেই টিকিয়ে রাখা হয়েছে। একথা সত্য নয় কি?
উত্তর : এই বক্তব্যে কোনো যুক্তি আছে বলে আমি মনে করি না। (এরপর ১১-এর পৃষ্ঠায়)
সে সময় সামরিক আইন মোতাবেক আমরা কিছু পদক্ষেপ নেই। সামরিক আইন যখন বেসামরিক সরকার কায়েমের পথ তৈরি করে দেয়, বেসামরিক সরকার তখন এগুলিকে বৈধ করার জন্য গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পার্লামেন্টে আইন প্রণয়ন করে এবং পদক্ষেপ সমূহকে এভাবেই সঙ্গত করে নেয়। পঞ্চম সংশোধনী পার্লামেন্টে আলোচনা ও অনুমোদিত হয়েছে। তাই এটা বৈধ।
প্রশ্ন : বিরোধী দলসমূহকে খণ্ড-বিখণ্ডিত মনে হচ্ছে। এটা কি সুস্থ অবস্থা বলে আপনি মনে করেন? পূর্ণ গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিতে এ অবস্থা কি আপনার ইচ্ছার প্রমাণ করে?
উত্তর : আওয়ামী লীগ এর আগে ক্ষমতাসীন ছিল। তাদের সংগঠন বড়। দলের অভ্যন্তরে বিভিন্ন কোন্দলের অনিবার্য পরিণতিতে তারা এ অবস্থার সম্মুখীন বলে আমি মনে করি। অন্যান্য দলের বেলায়ও এই একই কারণ। তাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে। বিভিন্ন বিষয়ে আমরা তাদের মতামত নিই।
প্রশ্ন : আপনার মন্ত্রিসভা এবং দলে শেখ মুজিবের এক সময়কার সমর্থক এবং তার পতনের জন্য কাজ করেছে এই উভয় ধরনের লোক রয়েছে। এটা বিস্ময়কর নয় কি?
উত্তর : আমাদের সঙ্গে অনেক লোক আছে, যারা এর আগে অন্যান্য দলে ছিল। অনেক লোককে বিন্যস্ত করে আমাদের এই দল গড়ে ওঠে, জনগণের মধ্যেই এর শিকড়। এই দলের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে। আমরা দ্রুতগতিতে দেশব্যাপী এ দল সংগঠিত করি। কর্মসূচি ব্যাখ্যা করে কর্মীপর্যায়ে দলে অনেক সভা সম্মেলন হচ্ছে। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং অর্থনৈতিক উত্পাদনের দিকে এগিয়ে নেয়াই এই রাজনৈতিক তত্পরতার লক্ষ্য।
একমাত্র এই প্রক্রিয়াই দেশের কল্যাণ বয়ে আনতে পারে। আমাদের দল সুসংগঠিত। কাজেই তা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সমাজের সর্বস্তরের জনগণকে অংশগ্রহণ করাতে সক্ষম। তাদের সবাইকে আমার দলে একটি রাজনৈতিক প্লাটফরম দিয়েছি। দলীয় প্লাটফরমের মাধ্যমে আমরা তাদের জাতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করানোর জন্য সংগঠিত করতে চাই।
সার্বিক জাতীয় উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে সমাজে বিভিন্ন স্তরে জনগণ এবং রাজনৈতিক দিক নির্দেশনা প্রাপ্তির মাধ্যমে যাতে নিজেদের সংগঠিত ও কর্মতত্পর করতে পারে তজ্জন্য কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, যুবক ও নারী সমাজকে একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি দিয়েছি, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও আমাদের কর্মসূচি রয়েছে।
প্রশ্ন : আপনার সরকারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর দালালি করার অভিযোগ আছে। আপনি তা কি স্বীকার করেন?
উত্তর : কিছু সংখ্যক লোক আমাদের দলের কয়েকজনের বিরুদ্ধে অনেক কিছু বলে থাকে। তাদের এ ব্যাপারে তথ্য দেয়ার কথা বললে তারা কেউ সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ দিতে বা কিছু বলতে পারে না। কাজেই কোনো কিছু সঠিকভাবে না জেনে-শুনে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করাকে সঠিক মনে করি না।
প্রশ্ন : আপনার কিছু সংখ্যক সমালোচক বলেছে যে, আপনি নিজের অবস্থানকে সংহত করার কাজে ব্যস্ত, ফলে পরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি অবহেলিত হচ্ছে?
উত্তর : আমরা যা করেছি, তা হলো দলীয় নেতৃত্ব গড়ে তোলার প্রচেষ্টা। কেননা আমাদের এই দেশে জাতীয় পর্যায়সহ বিভিন্ন স্তরে নেতৃত্বের অভাব রয়েছে। আমাদের একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি আছে। তা বাস্তবায়ন এবং জাতীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে সে অনুসারে দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার জন্য দলের একটি নিজস্ব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রও রয়েছে। দলীয় নেতৃবর্গ এবং গুরুত্বপূর্ণ কর্মীগণ এতে প্রশিক্ষণ নেয়। দেশে কোনো দলের এ ধরনের নিজস্ব কেন্দ্র এই প্রথম। আপনি জানেন প্রাথমিক অবস্থায় দেশকে সামনে এগিয়ে নেয়ার কাজে উন্নয়ন কলাকৌশলের দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি ও সাংগঠনিক ভিত গড়ে তোলা কত কঠিন কাজ। গত দু’বছরে উন্নয়ন ব্যয় দ্বিগুণ হয়েছে। প্রত্যেক সেক্টরকে মোকাবিলা করতে হয়েছে। দেশকে সামরিক শাসন থেকে আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে এনেছি।
মনে হয় আপনি অবগত আছেন যে, সেনাবাহিনীর কোনো লোক সামরিক আইন জারি করেনি। আওয়ামী লীগের একজন রাজনৈতিক নেতা (সাবেক প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাক) এই কাজটি করেন। পরিস্থিতি তাই ছিল এবং সশস্ত্র বাহিনীর কাঁধের ওপর তা এসে পড়ে।
প্রশ্ন : দুর্নীতি এখনও শংকার কারণ কি?
উত্তর : হ্যাঁ! সব সময়ই দেশে ব্যাপক দুর্নীতি চালু আছে। সারা বিশ্বেও আমি তাই দেখছি। দুর্নীতির নয়া নয়া পন্থা দেখা যাচ্ছে। লোকজন বাইরে যাচ্ছে আর দুর্নীতির নয়া কৌশল শিখছে। আপনি জানেন, আমরা প্রশাসন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাচ্ছি, এতে আরও কিছু সময় লাগবে। দেশকে রাজনৈতিকভাবে আমরা সংগঠিত করছি। প্রশাসনের মধ্যে ভারসাম্য সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। এ ভারসাম্য হবে প্রশাসনে জনগণের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে।
প্রশ্ন : বাংলাদেশ জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন সংস্থার গুরুত্ব বাড়াতে চায় বলে মনে হয়। আপনাদের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতি বিশেষত সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক কি?
উত্তর : ১৯৭৫ সাল থেকে আমরা আরো অনেক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে কাজ করছি। প্রত্যেকের সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। প্রত্যেক দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। ১৯৭৫ সালের পর চীন, সৌদি আরব, কোরিয়া, পাকিস্তান এবং অপর দু’একটি দেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফিলিপাইন ও জর্ডানে শিগগিরই আমাদের মিশন খোলা হবে। আমাদের পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য হলো মৈত্রীর বিস্তার এবং এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা চাই। অর্থনৈতিক উন্নয়নে এটা অপরিহার্য। কোনো শক্তি জোটের পক্ষাবলম্বন না করে এই অঞ্চলের প্রত্যেক দেশের সঙ্গে সুসম্পর্কের মাধ্যমেই তা অর্জন করা যাবে।
প্রশ্ন : এর মানে কি মুজিব শাসনামলের সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে বিদ্যমান বিশেষ সম্পর্ক থেকে আপনি সরে যাচ্ছেন?
উত্তর : তা আমি মনে করি না। সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে। তারা এখানে কয়েকটি প্রকল্পে অংশ নিচ্ছে। উভয় দেশের মধ্যে সময়ে সময়ে প্রতিনিধি দল বিনিময় হচ্ছে।
প্রশ্ন : ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপারে আপনি নয়াদিল্লির সদিচ্ছার ওপর বাংলাদেশের আস্থা কমিয়ে আনতে চান?
উত্তর : ভারতের সঙ্গে দু’তিন বছরে বাণিজ্য বেড়েছে। তাদের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক বিদ্যমান।... উভয় দেশের মধ্যে মন্ত্রী পর্যায়ের এক যৌথ কমিশন রয়েছে। গঙ্গা অববাহিকার পানির যৌথ ব্যবহারের একটি দীর্ঘ মেয়াদি সমাধান পাওয়া যাবে।
প্রশ্ন : চলতি সালে খরায় ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ায় বাজেটের অধিকাংশ অর্থ খাদ্য ক্রয়ে ব্যয় করা হচ্ছে। এতে কি দেশের সাধারণ অর্থনীতি ক্ষতির সম্মুখীন হবে না?
উত্তর : খরার ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক। পরিস্থিতির মোকাবিলায় আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। এর ফলে আমাদের উন্নয়ন কর্মসূচি যাতে ব্যাহত না হয়, পাশাপাশি তারও ব্যবস্থা নিয়েছি। কৃষি উত্পাদন বৃদ্ধি ও পল্লী উন্নয়নে আমরা অতিরিক্ত প্রকল্প গ্রহণ করেছি। আপনি জানেন যে, লুসাকা (কমনওয়েলথ শীর্ষ বৈঠকে) এবং হাভানা বৈঠকে তা গৃহীত এবং বাংলাদেশ এর সমন্বয়কারী দেশ হিসেবে মনোনীত হয়েছে। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত সুখবর। কৃষি উন্নয়নে কিছু বিদেশী তহবিলের সঙ্গে আমরা যোগসূত্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছি। কৃষি খাত এবং খনিজ, গ্যাস ও তেল আহরণের বিশেষ প্রকল্পসমূহের জন্যে আমাদের দেশী মুদ্রারও অভাব রয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহের কতিপয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
প্রশ্ন : আপনি খাদ্য উত্পাদনে বাংলাদেশ স্বনির্ভরতা অর্জন করতে পারার এমনকি উদ্বৃত্ত খাদ্যশস্য রফতানির কথাও বলেন, কৃষিখাতে বিশেষত যখন বিনিয়োগ মন্থর বলে শোনা যাচ্ছে তখন এই লক্ষ্য অর্জনের আশা কি উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়?
উত্তর : কৃষিখাতে বিনিয়োগ ধীরগতি সম্পন্ন হয়ে পড়েছে কথাটি সঠিক নয়। সমস্যা ব্যাপক তাই সবকিছুকে সংগঠিত করা কষ্ট সাপেক্ষ। কিন্তু এমন পর্যায়ে পৌঁছেছি সেখান থেকে আমরা সঠিকভাবে দ্রুত এগিয়ে যেতে পারব।
প্রশ্ন : বৈদেশিক ঋণের ওপর আপনি ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং দাতা দেশগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্যে বাংলাদেশে তহবিল জোগান অব্যাহত রাখবে বলে আপনি মনে করেন?
উত্তর : এ পর্যন্ত আমাদের জন্যে খুবই অসুবিধাজনক সময় ছিল। শূন্য থেকেই আমরা শুরু করেছি। এখন আরও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার মতো অবস্থায় পৌঁছেছি। উদাহরণস্বরূপ কৃষি খাতের কথা বলা যায়। আমরা কৃষিকে এগিয়ে নিতে চাই এই কারণে যে, এ খাতে পর্যাপ্ত উদ্বৃত্ত উত্পাদন করে তা রফতানি করা সম্ভব। আগামী তিন বছরের মধ্যে এই খাতে আমাদের চাহিদা পূরণ করে রফতানির সমতা অর্জন করা যাবে। এখন অসম্ভব মনে হলেও তা কঠিন নয়।
প্রশ্ন : ২.৫-৩% হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধির আলোকে জনগণের মধ্যে পরিবার পরিকল্পনাও জন্মশাসনে আপনি কি ব্যবস্থা নিচ্ছেন?
উত্তর : ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো পরিকল্পনাই ছিল না এবং কিছুই হয়নি। ১৯৭৫ সালের পর গ্রামে পরিবার পরিকল্পনা প্রকল্প কাজ করার জন্যে আমরা বহু সংখ্যক নারী-পুরুষকে প্রশিক্ষণ দিই। এখন পল্লী এলাকায় ৩৮ হাজার পরিবার-পরিকল্পনা কর্মী নিয়োজিত রয়েছে। তবে তাদের তত্ত্বাবধান পর্যাপ্ত নয়। তাদেরকে দিয়ে কার্যকরভাবে কাজ করানোর জন্যে আমরা তাদের নিয়ন্ত্রণ ও কাজের খতিয়ান নেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। বহুসংখ্যক নারী-পুরুষও জন্মশাসন অপারেশনের জন্যে আসছে এবং তাদের এই সুযোগ-সুবিধা দিতে আমরা সক্ষম হচ্ছি।
এটা একটি স্পর্শকাতর এলাকা, রাতারাতি এখানে বৈপ্লবিক কিছু করা যাবে না। জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার কাজে আমরা পর্যায়ক্রমে এগুচ্ছি এবং তার ফলাফল পাচ্ছি। জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে আমরা এক নম্বর সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছি। কেননা, এই শতাব্দীর শেষে এই জনসংখ্যা দ্বিগুণ হলে কেউ বেঁচে থাকবে না। আমাদের জনসংখ্যা সর্বোচ্চ দশ কোটিতে সীমিত রাখতে হবে। অন্যথায় দেশের জন্য মারাত্মক অবস্থার সৃষ্টি হবে।

রতনি টাস্কার
ফার ইস্টার্ন ইকোনমিক রিভিউ
অক্টোবর, ১৯৭৯

একজন রাষ্ট্রনায়কের মৃত্যুর খবর


৩০ শে মে, ২০১২ সকাল ১০:০৭

সৈ য় দ জি য়া উ র র হ মা ন
১৯৭৬ সাল থেকে ভয়েস অব আমেরিকায় দীর্ঘ ৩৫ বছরের কর্মজীবনে ওয়াশিংটন থেকে পরিবেশিত বাংলা সংবাদ-বুলেটিনে ইতিহাসের অনেক প্রখ্যাত নেতা-নেত্রীর মৃত্যুর খবর পড়তে হয়েছে আমাকে। মিসরের কায়রোতে ক্যান্সার আক্রান্ত ইরানের শাহ রেজা পাহলভীর মৃত্যুর খবর, মিসরের রাজনীতিতে ফৌজী কুচকাওয়াজে সামরিক অভিবাদন গ্রহণকালে বিক্ষুব্ধ সৈন্যদের গুলিতে প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাতের নিহত হওয়ার খবর, পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল জিয়াউল হকের ফাঁসিতে ঝুলে বাংলাদেশে গণহত্যার ইন্ধনদাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোর মৃত্যু ও পরে বিমান দুর্ঘটনায় জেনারেল জিয়াউল হকের প্রাণহানির সংবাদ, ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর দেহরক্ষীদের গুলিতে নিহত হওয়া ও তার পুত্র সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর আত্মঘাতী হামলাকারীর বিস্ফোরণে জীবন নাশের খবর, ইস্রাইলের প্রধানমন্ত্রী ইত্সাক রাবিনের নিহত হওয়া ও তার কিছুকাল পরে ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাতের প্রয়াণের খবর পড়েছি আমি। এছাড়া পড়েছি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নিহত হওয়ার খবর। 
এগুলো নিঃসন্দেহে ছিল সংশ্লিষ্ট সময়ে বিশ্ব প্রেক্ষাপটে বেতার-সংবাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য খবর। বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক বেতার প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভয়েস অব আমেরিকা গুরুত্বের সঙ্গে বস্তুনিষ্ঠভাবে এসব সংবাদ বিস্তারিত পরিবেশন করেছে। কিন্তু এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নিহত হওয়ার খবর ছিল ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের পক্ষে বিশেষ তাত্পর্যপূর্ণ।
১৯৭১-এ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের প্রশাসন পাকিস্তানকে সমর্থন যুগিয়েছে। প্রেসিডেন্ট নিক্সনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে গণহত্যায় লিপ্ত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন প্রকাশ্যে।
যদিও আমেরিকার বার্তা-মাধ্যম বেশ কিছুসংখ্যক সিনেটর ও কংগ্রেস সদস্য, শিল্পী-সাহিত্যিক-মানবতাবাদী এবং বৃহত্তর আমেরিকান জনগোষ্ঠী সোচ্চার হয়েছে পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতার বিরুদ্ধে। প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী জর্জ হ্যারিসন বাংলাদেশের বিপন্ন মানুষের জন্য অর্থ সংগ্রহের প্রচেষ্টায় সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন নিউইয়র্ক শহরে।
কিন্তু এসব সত্ত্বেও ভয়েস অব আমেরিকার আন্তর্জাতিক বেতার-অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ সম্ভব হয়নি নিক্সন প্রশাসনের ভূমিকার দরুন। কারণ তখন যুক্তরাষ্ট্রের একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভয়েস অব আমেরিকার ছিল প্রশাসনের নীতি অনুসরণের বাধ্যবাধকতা। পরবর্তীকালে অবশ্য কংগ্রেসের অনুমোদিত একটি সনদে ভয়েস অব আমেরিকার অনুষ্ঠান নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রচারের নির্দেশনা ঘোষিত হয়। তা সত্ত্বেও ’৭০-এর দশকের পুরো সময়টাতেই ভিওএ’র বাংলা অনুষ্ঠানের প্রতি বাংলা ভাষাভাষী শ্রোতাদের এক ধরনের বিরাগ ভাব বেশ জোরাল ছিল। ১৯৭৮ সালে ভিওএ’র বাংলা বিভাগের প্রধান ইশতিয়াক আহমেদ শ্রোতাদের আস্থা অর্জনের প্রচেষ্টায় ঢাকায় সাংবাদিক ও শ্রোতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভয়েস অব আমেরিকার সীমাবদ্ধতার বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। কিন্তু তারপরও মেঘ কাটেনি।
এরপর আকস্মিকভাবে ১৯৮১ সালের ৩০ মে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে রাতের বেলায় একদল বিদ্রোহী সেনা-সদস্যের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন। এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর ওয়াশিংটনে আসার পর ৩১ মে শনিবার সকালে ভয়েস অব আমেরিকায় বাংলা বিভাগের প্রধান ইশতিয়াক আহমেদ বিভাগের সবাইকে দফতরে ডেকে পাঠান। আমার সেদিন সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছিল । বিভাগীয় প্রধান আমাদের এক ঘণ্টার অনুষ্ঠানের প্রায় পুরোটাই বাংলাদেশের বিপর্যয়-ঘটনার ওপর আলোকপাতের পরিকল্পনা করেন। আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয় সংবাদ পাঠের। আমার অন্যান্য সহকর্মীর মধ্যে কেউ কেউ উদ্যোগ নেন নিহত রাষ্ট্রপতির এর আগেকার নেয়া সাক্ষাত্কার অবলম্বনে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচারের—এই ঘটনায় দেশ-বিদেশের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বিশেষ প্রতিবেদন উপস্থাপনের এবং বিশ্ব নেতৃবর্গের মন্তব্য প্রচারের। সেদিন ১০ মিনিটের নির্ধারিত বিশ্বসংবাদের সাত মিনিটই নির্দিষ্ট করা হয় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির নিহত হওয়ার খবর পরিবেশনের। 
ভিওএ’র সম্প্রচারিত যে খবর সেদিন আমি পড়েছি, তার একটা উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল প্রেসিডেন্ট জিয়ার মৃত্যুতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের ও বিশ্বনেতৃবর্গের প্রতিক্রিয়া। তাতে ছিল যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন, জাপান, আরব বিশ্ব, দক্ষিণ এশিয়া ও দূরপ্রাচ্যের নেতৃবর্গ ছাড়াও নিকটতম প্রতিবেশী ভারতের প্রতিক্রিয়া। আমার কাছে এখনও আছে টেপে ধরে রাখা আজ থেকে ৩২ বছর আগে সম্প্রচারিত ওই সংবাদের রেকর্ড। তাতে ছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর দীর্ঘ একটি বক্তব্য। তিনি বলেছিলেন, ‘প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়ার ছিল রাষ্ট্র নায়কোচিত দূরদর্শিতা। তিনি ছিলেন তার নিজের দেশের সার্বিক অগ্রগতির প্রচেষ্টায় নিবেদিত।’
ওই দিন সংবাদ পাঠের অনুভূতি ছিল অন্য এক ধরনের, অন্যান্য দিনের খবর পড়ার মতো সহজ-স্বাভাবিক নয়। স্টুডিওতে আমার পাশের টেবিলে আরেকটি মাইক্রোফোনের সামনে বসে অনুষ্ঠান ঘোষিকার দায়িত্ব পালন করছিলেন যে সহকর্মিনী, তিনি তার চাপাকান্না রোধ করতে পারছিলেন না এবং মাঝে-মধ্যেই তার শব্দ আসছিল আমার কানে। তাছাড়া বার্তা কক্ষের পাঠানো সর্বশেষ খবর নিয়ে আসার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন যে সহকর্মী, তিনি প্রতি মুহূর্তের আপডেট খবর নিয়ে ঝড়ের বেগে প্রবেশ করছিলেন স্টুডিওতে এবং সঙ্গে সঙ্গে পড়তে হয়েছে সেই খবর। সব মিলিয়ে ছিল ব্যাপক উদ্বেগ, উত্কণ্ঠা আর উত্তেজনা। 
বেতার সংবাদ সংস্থায় বার্তা পরিবেশনের ক্ষেত্রে তখনও কম্পিউটার ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়নি। ভিওএ’র বার্তা কক্ষে সংবাদ সংগৃহীত হতো বিশ্বব্যাপী প্রতিনিধিদের পাঠানো টেলিফোন ও তারবার্তা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ-সংস্থার পাঠানো খবরাখবর থেকে। তারপর এসব খবর ভিওএ’র কেন্দ্রীয় বার্তা কক্ষ থেকে ৫২টি ভাষার অনুষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হতো টেলিপ্রিন্টারের মাধ্যমে। ওই দিন আমাদের বাংলা বিভাগের টেলিপ্রিন্টারে যেসব আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার খবরাখবর আসে তার মধ্যে রয়টার্স, এএফপি ও এপি’র পাঠানো সংবাদ ছিল নির্ভরযোগ্য। কিন্তু বাংলাদেশের ঘটনা সম্পর্কে অধিকাংশ খবর আসে ভারতীয় বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া বা পিটিআই-এর মাধ্যমে। দুঃখের বিষয়, পিটিআই-এর পরিবেশিত খবর ছিল বেশিরভাগই গুজবের পর্যায়ে। যেমন এসব খবরে ছিল ‘ভারতীয় বাহিনী সতর্ক ব্যবস্থা হিসেবে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের এলাকায় প্রবেশ করেছে’, ‘ঢাকায় রাস্তায় রাস্তায় হাতাহাতি লড়াই চলছে’, ‘চট্টগ্রামে বিদ্রোহীদের অবস্থানের ওপর সরকারি বাহিনীর বিরামহীন বোমাবর্ষণ চলছে’ ইত্যাদি।
এ অবস্থায় প্রয়োজন ছিল খুবই সতর্ক ও সঠিক তথ্য বিচারের বিচক্ষণতার এবং সংবাদ বাছাইয়ের দক্ষতার। বিভাগীয় প্রধান ইশতিয়াক আহমেদ এ ক্ষেত্রে অনন্য দক্ষতার পরিচয় দেন সেদিন। তার ফলে যেসব খবর তিনি বাছাই করে আমাকে দিয়েছিলেন সংবাদ বুলেটিনে পড়ার জন্য, তার প্রতিটিই ছিল সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ। পরবর্তীকালে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি সংবাদপত্রের মন্তব্যে বলা হয় ‘মে মাসের ৩১ তারিখে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নিহত হওয়ার খবর প্রচারিত হয় যেসব আন্তর্জাতিক বেতারে, তার মধ্যে একমাত্র ভিওএ’র বাংলা খবরই ছিল একশ’ ভাগ সঠিক।’ পরদিন ওয়াশিংটন পোস্ট, নিউইয়র্ক টাইমস ও লস-এঞ্জেলেস টাইমসহ আমেরিকার প্রধান দৈনিক সংবাদপত্রগুলোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির নিহত হওয়ার খবর এবং ঢাকায় লাখ লাখ মানুষের সমাবেশে তাকে সমাহিতকরণের ছবি ফলাও করে প্রকাশিত হয় প্রথম পৃষ্ঠায়। এছাড়াও পরপর কয়েক দিন বাংলাদেশের খবরাখবর প্রাধান্য পায় আমেরিকার পত্র-পত্রিকায়। আর সেসব সংবাদ-বিবরণী প্রতিদিনই বাংলা অনুবাদ করে প্রচারিত হয় ভিওএ’র বাংলা অনুষ্ঠানে। গোটা বাংলাদেশে তখন নিহত রাষ্ট্রপতির প্রতি সহানুভূতির প্রকাশ ব্যাপক এবং বহির্বিশ্বের প্রতিক্রিয়া জানার আগ্রহ জোরাল। 
এর ফলে বাংলাদেশের শ্রোতাদের কাছে ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা অনুষ্ঠান অতীতের সব প্রশ্ন আর অবিশ্বাস অতিক্রম করে হয়ে ওঠে জনপ্রিয়। ওই সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আটজন শিক্ষক ওয়াশিংটনে পাঠানো এক চিঠিতে ভিওএ’র বাংলা সংবাদকে ‘সঠিক ও যথার্থ’ বলে অভিনন্দিত করেন। এর আগে ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগে প্রতি মাসে বাংলাদেশ, ভারত ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল থেকে শ্রোতাদের যে চিঠিপত্র আসত, তার সংখ্যা গড়ে মাত্র একশ’ থেকে দেড়শ’র মধ্যে সীমিত ছিল। রাষ্ট্রপতি জিয়ার মৃত্যুর ঘটনার পরবর্তী কয়েক মাস পর্যন্ত শ্রোতাদের পাঠানো এই চিঠির সংখ্যা দাঁড়ায় প্রতি মাসে চার থেকে পাঁচ হাজার।

সাইফুর রহমানের চোখে প্রেসিডেন্ট জিয়া ‘হি ওয়াজ এ ম্যান অব ভিশন’


৩০ শে মে, ২০১২ সকাল ৯:৫৩

সৈ য় দ আ ব দা ল আ হ ম দ
মৃত্যুর আগে প্রেসিডেন্ট জিয়া একদিন আমাকে বলেন, আমি তো অবসরে যাবো। অবসরে যাওয়ার পর আমি কীভাবে বেঁচে থাকবো, তার পরিকল্পনা করেছি। নোট লিখে রাখছি। আমি আমার আত্মজীবনী লিখবো। আমার মনে হয় লোকে আমার বই কিনবে। আর ‘স্বাধীনতা যুদ্ধ’ সম্পর্কেও আরেকটি বই লিখবো। এছাড়া আমার একটা সাইকেল আছে। সাভারে আমার সাড়ে সাত কাঠা জমি আছে। পেনশন থেকে যে টাকা পাবো, সেই টাকা দিয়ে একটা বাড়ি করবো। দেখেন কী ধরনের সত্ চিন্তা। দেশের প্রেসিডেন্ট! একটা গাড়ি কেনার কথাও বলেননি। 
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সম্পর্কে এ কথাগুলো লিখে গেছেন তাঁরই রাজনৈতিক সহকর্মী এম সাইফুর রহমান। তিনি প্রেসিডেন্ট জিয়া ও খালেদা জিয়া সরকারের অর্থমন্ত্রী, পরিকল্পনামন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন। এ সময়ে অর্থমন্ত্রী হিসেবে তিনি সংসদে বারো বার বাজেট পেশ করার বিরল সম্মান লাভ করেন। মৃত্যুর কিছুদিন আগে ২০০৯ সালে ‘কিছু কথা কিছু স্মৃতি’ নামে তাঁর একটি বই প্রকাশিত হয়। সেই বইয়ে তিনি জিয়াউর রহমান সম্পর্কে অজানা অনেক কথা লিখে গেছেন। 
সাইফুর রহমান লিখেছেন, রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে জিয়াউর রহমান দেশে অনেক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। শিশু একাডেমি, মেয়েদের শিক্ষা, যুব মন্ত্রণালয়, কালচারাল ইনস্টিটিউট, মহিলা মন্ত্রণালয়, শিল্পকলা একাডেমী, গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং আরো অনেক কাজ জিয়া করেন। এসব ছিল তাঁর ভিশনারী কতগুলো প্রোগ্রাম। ঐব ধিং ধ সধহ ড়ভ ারংরড়হ. তার নধপশমত্ড়ঁহফ ছিল মিলিটারি। তবুও আমার কাছে মনে হয়, ঐব পধসব রিঃয ধ ফবংঃরহু ঃড় পত্বধঃব ধ পড়ঁহঃত্ু, ধ ফবংঃরহু ভড়ত্ ঃযব ঢ়বড়ঢ়ষব ড়ভ ইধহমষধফবংয. 
প্রেসিডেন্ট জিয়ার সঙ্গে পরিচয়ের কথা উল্লেখ করে সাইফুর রহমান লেখেন, সৈনিক জিয়ার সঙ্গে আমার প্রথম সাক্ষাত্ হয় ১৯৭২ সালের প্রথম দিকে। সম্ভবত মাসটি ছিল ফেব্রুয়ারি, এক ডিনার পার্টিতে। একেএম মুসার ধানমন্ডির বাড়িতে। স্বাভাবিকভাবে আমি তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত হওয়ার জন্য উত্সুক ছিলাম। কারণ তাঁর কণ্ঠেই আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা শুনেছিলাম চট্টগ্রামের কালুরঘাট রেডিও স্টেশন থেকে। তিনি ছিলেন বেশ চুপচাপ; কথা বলছিলেন কম, শুনছিলেন বেশি। ওই সন্ধ্যায় তাঁর সম্পর্কে আমার মূল্যায়ন ছিল এই লোকটির মধ্যে নেতৃত্বের গুণ আছে এবং তিনি জীবনে উপরে উঠবেন। তিনি ছিলেন স্থিরমস্তিষ্ক, অমায়িক, মৃদুভাষী। তাঁর মধ্যে গর্ব বা ঔদ্ধত্যের লেশমাত্র দেখিনি। মুক্তিযুদ্ধ থেকে সদ্য ফিরে আসা বীরের মধ্যে তা থাকা অস্বাভাবিক ছিল না। যা হোক, আমাদের এ সম্পর্ক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রইলো। অবস্থা এমন হলো যে, ওই ঘটনার এক মাস বা তার কিছুদিন পরে আমাকে জাতীয় পে-কমিশনের সদস্য করা হয়। ওই কমিশনের নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় সচিব মরহুম এমএ রব। বৈঠকে দেখলাম আমার ডান পাশে বসে আছেন জিয়া। এটা আমার জন্য ছিল এক মধুর বিস্ময়। তিনি প্রতিনিধিত্ব করছিলেন প্রতিরক্ষা সার্ভিসের। তিনি ছিলেন কমিশনেরও একজন সদস্য।
এরপর একে অপরের বাসায় এবং অন্যান্য স্থানে আমরা অনেকবার মিশেছি। আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক ডিনার অথবা কোনো সভায়। আমার স্ত্রী ও জিয়ার স্ত্রী খালেদা জিয়ার মধ্যে যোগাযোগ হয় এবং তারা ভালো বন্ধু হিসেবে পরিচিত হন। তারা দু’জন একে অপরের সঙ্গে ইচ্ছা হলে আমাদের ছাড়াই দেখা-সাক্ষাত্ করতেন যখন-তখন। জিয়ার সঙ্গে আমার কিছুটা ঘনিষ্ঠতা হয় বাংলাদেশের এই প্রথম পে-কমিশনের সদস্য হিসেবে। কমিশনটি গঠিত হয়েছিল স্বাধীনতার পর। ’৭৫-এর পটপরিবর্তনের পর ৭ নভেম্বর ঘটে সিপাহী-জনতার বিপ্লব। সিপাহী-জনতা জেনারেল জিয়াকে গৃহবন্দি অবস্থা থেকে মুক্ত করে আনে। প্রকৃতপক্ষে এ সময়ই জেনারেল জিয়া ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। তখন দেশে চলছিল এক অস্থির অবস্থা। চলছিল রাজনৈতিক শূন্যতা। এই অবস্থা থেকে দেশকে কীভাবে মুক্ত করা যায়, সেসব বিষয়ে জেনারেল জিয়া চিন্তা করতে থাকেন। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান এবং সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরে সৃষ্ট অস্থিরতা নিরসন তাঁর প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। দেশের ওই অনিশ্চিত ও সংঘাতময় পরিস্থিতিতে তিনি সবসময় উদ্বিগ্ন থাকতেন। কারণ সিপাহী-জনতার বিপ্লব কোনো সহজ বিষয় নয়। সিপাহীরা বিশৃঙ্খল হয়ে যাওয়ার পর তাদেরকে ব্যারাকে শৃঙ্খলাবদ্ধ অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়া খুব সহজ কাজ ছিল না। জিয়াউর রহমানের জন্য এটা ছিল একটা ‘হারকিউলিয়ান টাস্ক’ এবং তিনি ওই কাজকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেন। তিনি পরিস্থিতিকে শান্ত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সমর্থ হন। আলোচনা, অনুরোধ, প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও নেতৃত্বের গুণাবলী দিয়ে ওই সঙ্কট উত্তরণে তিনি সমর্থ হন। এ সময় প্রেসিডেন্ট বিচারপতি এএসএম সায়েম ছিলেন প্রেসিডেন্ট। বেশ কয়েকজন বেসামরিক ব্যক্তিকে তার উপদেষ্টা নিয়োগ করা হয়। এর মধ্যে আমিও ছিলাম। আর ছিলেন ড. এমএন হুদা, জনাব হাফিজ উদ্দিন, সৈয়দ আলী আহসান, ড. এমএ রশীদ, ড. ফসীহউদ্দিন মাহতাব, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ এবং আরো কয়েকজন। এ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের লোকে বলতো অ মধষধীু ড়ভ ঃধষবহঃং. 
জিয়াউর রহমানের উপদেষ্টা হিসেবে কেন এবং কীভাবে যোগ দিলেন, সেই স্মৃতি সম্পর্কে সাইফুর রহমান লেখেন, জিয়া প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর প্রথম উপদেষ্টা করলেন আকবর কবীরকে। তাকে দেয়া হয় তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। জিয়া তাঁর পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার সময় আমাকে মাঝে মাঝে চা খেতে ডাকতেন। কিছুদিন জিয়া অর্থমন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও ছিলেন। ফলে বিভিন্ন বিষয় বিশেষ করে অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে তিনি আমার সঙ্গে আলোচনা করতেন। কোন লোকদের দিয়ে কী ধরনের কাজ করানো যায়, সে পরামর্শও নিতেন। কারণ তিনি আমাকে পে-কমিশনের সদস্য হিসেবে জানতেন। আমার ফাইন্যান্সিয়াল ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কেও তাঁর জানা ছিল। আমি আমার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী তাঁকে সত্ পরামর্শ দিয়েছিলাম। একদিন তিনি বললেন, বাইরে থেকে এসব পরামর্শ দিয়ে কোনো লাভ হয় না, এতে সঠিকভাবে কাজ হয় না। আপনি উপদেষ্টা কাউন্সিলে যোগ দিন। একটা কথা তিনি প্রায়ই বলতেন, আমি সামরিক বাহিনীতে ছিলাম। সিভিলিয়ান লোকদের আমি বেশি চিনি না। আপনি আসলে আপনার মাধ্যমে বেসামরিক লোকদের সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা বাড়াতে পারবো। জেনারেল জিয়া আমাকে এ প্রস্তাব দেন ১৯৭৬ সালের মার্চ-এপ্রিলের দিকে। আমি তাঁকে বলি যে, এটা আমার পক্ষে সম্ভব হবে না। আমি নিজের পেশা নিয়ে ব্যস্ত থাকি। তাছাড়া মিলিটারি প্রশাসন সম্পর্কে আমার গভীর অনীহা আছে। তিনি বলেন, এখন তো আর মিলিটারি ব্যবস্থা নয়। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে অনেক কিছুর উত্থান-পতন ঘটে গেছে। এখন অনেকটা শান্ত, পুনর্গঠনের কাজ চলছে। তাছাড়া আমিও বিশ্বাস করি সামরিক শাসন বেশিদিন চলতে পারে না। এটা সমস্যার সমাধান নয়। বহুদলীয় গণতন্ত্রে দ্রুত দেশকে নিয়ে যেতে হবে। আপনাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা পেলে দেশের জন্য কল্যাণ হবে। এর কয়েক দিন পর জেনারেল জিয়ার একান্ত সচিব (মিলিটারি) আমাকে টেলিফোন করেন। বলেন, জেনারেল জিয়ার সঙ্গে চায়ের আমন্ত্রণ। ওই দিন তিনি আমাকে বলেন, আপনাকে অনেক দিন থেকে বলছি আপনি আসছেন না। আপনার আর দেরি করা ঠিক নয়। উপদেষ্টা পরিষদে অনেকেই আছেন। তারা কাজ করছেন। তাদের ধ্যান-ধারণা অনেকটা পুরনো। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে নতুন ধ্যান-ধারণায়।
আমি তাকে জানাই যে, দেশের বাইরে লন্ডনে যাচ্ছি। ফিরে আসার পর আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করবো। লন্ডন থেকে ফিরে এলে তিনি আবার ফোন করেন। বললেন, আপনাকে আমি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিতে চাই। আমি বললাম আপনার প্রস্তাবে আমি সম্মত আছি, তবে বেশি দিন এই দায়িত্ব পালন করতে পারবো না। জিয়া বললেন, বেশি দিন থাকতে হবে না। আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছি। খুব শিগগিরই নির্বাচন দেয়া হবে। তবে আমার স্ত্রী আমার সিদ্ধান্তে রাজি ছিলেন না। আমার শ্বশুর চট্টগ্রামে ছিলেন। তাকে ঢাকায় নিয়ে আসি। তার পরামর্শ চাই। তিনি বললেন, দেখ বাবা, রাজনীতি করতে আমি তোমাকে বলি না, দেশটা স্বাধীন হয়েছে, এইজন্য অনেক লোক কষ্ট করেছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো নয়। এই অবস্থায় উপদেষ্টা পরিষদে যাওয়া বিবেচনার বিষয়। এর সঙ্গে কিছুটা ঝুঁকি অবশ্যই আছে। তবে ঝুঁকি এড়িয়ে জীবনে বড় হওয়া যায় না। আর এ সময় জাতি নেতৃত্বহীনভাবে ভাসমান অবস্থায় আছে। বিক্ষুব্ধ তরঙ্গের মাঝে জাহাজের একজন নাবিক কতটুকুই-বা কাজ করতে পারেন। তোমাদের মতো কিছু লোক যদি তাকে সাহায্য করে, তাহলে দেশের উপকার হবে। জিয়াউর রহমানও বলতেন, আপনারা কাজ করছেন দেশের জন্য, আমার জন্য নয়। এ সময় আপনাদের দেশের জন্য কাজ করতে হবে। এটা শুধু আমার একার দায়িত্ব নয়, আপনাদেরও দায়িত্ব। ফলে ওই উপদেষ্টা পরিষদে আমি যোগদানের সিদ্ধান্ত নিই। প্রেসিডেন্ট জিয়ার একটা বিষয় আমাকে মুগ্ধ করে। তিনি সত্ মানুষকে গুরুত্ব দিতেন এবং উপদেষ্টা পরিষদেও সেধরনের লোকের সমাবেশ ঘটান। 
জিয়ার গণভোট সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করে এম সাইফুর রহমান লেখেন, প্রেসিডেন্ট জিয়া একদিন বললেন, উপদেষ্টা পরিষদ দিয়ে কতোদিন দেশ চালানো যায়? রাজনৈতিক শূন্যতা দেশের জন্য ভালো নয়। তাছাড়া সেনাবাহিনীর চিফ ও প্রেসিডেন্ট এক ব্যক্তি—এ নিয়ে কথা উঠছিল। জিয়ার ক্ষমতায় থাকার জন্য জনগণের মত আছে কিনা, তা যাচাই করা প্রয়োজন ছিল। তখন উপদেষ্টা পরিষদে সিদ্ধান্ত (এরপর ১০-এর পৃষ্ঠায়)
নেয়া হয় প্রেসিডেন্টের উচিত গণভোটে যাওয়া। জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে তারা প্রেসিডেন্ট হিসেবে জিয়াকে চায় কিনা। সেকারণে ‘হ্যাঁ না’ ভোটের ব্যবস্থা করা হয়। জিয়া প্রেসিডেন্ট ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সামরিক আইন প্রশাসক ও বেসরকারি উপদেসষ্টা পরিষদের সমন্বয় সাধন করা প্রেসিডেন্টের পক্ষে কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদে আলোচনা হয়। যাই হোক, ১৯৭৭ সালের ৩০ মে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। 
এই রেফারেন্ডাম বা গণভোটের জন্য প্রচারকাজে বিভিন্ন এলাকায় জনসভা করার প্রয়োজন ছিল। ড. এমএন হুদা বললেন, তিনি যেতে পারবেন না। হাফিজ উদ্দিন এবং আরো কয়েকজন উপদেষ্টা বললেন, গণভোটের প্রচার অভিযান তারা করতে পারবেন না। এ সময় প্রেসিডেন্ট জিয়া আমাকে গণভোটের ক্যাম্পেইন করার কাজ করতে বলেন। গণভোটের পক্ষে পাবলিসিটি—এটাই ছিল আমার রাজনৈতিক জীবনের শুরু। এর আগে আমি কখনো জনসভা বা পাবলিক মিটিংয়ে যাইনি। ছাত্রজীবনে রাজনৈতিক কাজে বিশেষ করে ভাষা আন্দোলনের সময় কাজ করেছিলাম। তবে বাস্তবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ জিয়াউর রহমানের গণভোটের মাধ্যমে। আমি দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে প্রচার চালাই। এরপর প্রেসিডেন্ট জিয়া সিদ্ধান্ত নিলেন, দেশে দ্রুত রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করা প্রয়োজন। তিনি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করলেন। অরাজনৈতিক উপদেষ্টাদের পাশাপাশি রাজনৈতিক লোকদেরও উপদেষ্টা করলেন, জাগদল গঠিত হলো। দেশে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হলো। এরপর জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট গঠন করে সব দলের উপস্থিতিতে সংসদ নির্বাচন হলো। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গঠন করলেন জিয়া। প্রফেসর এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, মশিউর রহমান যাদু মিয়া, শাহ আজিজুর রহমান প্রমুখ ব্যক্তিত্ব যোগ দিলেন। প্রতিটি প্রক্রিয়ার সঙ্গেই ছিলাম আমি। জিয়াউর রহমান আমাকে বিশ্বাস করতেন এবং আমার প্রতি ছিল তার প্রচণ্ড আস্থা। আমিও তাঁকে সবসময় সত্পরামর্শ দিয়েছি এবং সবধরনের সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি। 
সাইফুর রহমান লেখেন, প্রেসিডেন্ট জিয়ার একটা গুণ ছিল, তিনি যদি কাউকে কোনো কাজে পাঠাতেন বা তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে যারা যেতেন তারা যদি তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুচারুভাবে সম্পন্ন করতেন, তাহলে তিনি তার প্রশংসা করতেন। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এশিয়ার জন্য নির্ধারিত অস্থায়ী সদস্যপদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ১৯৭৮ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়া উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল নতুন দেশ বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে পরিচিত করানো। সে সময় জাপান আমাদের বিরুদ্ধে প্রার্থী দেয়। জাপানের মতো একটা শক্তিশালী দেশের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো কিনা, তা নিয়ে প্রথমেই আমাদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল। তাছাড়া আমাদের বড় ডোনার কান্ট্রিও ছিল জাপান। উপদেষ্টা কাউন্সিলে এ নিয়ে আলোচনা হয়। প্রায় সবাই বললেন, আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা উচিত। একটিমাত্র অস্থায়ী সদস্যপদ। প্রতি দু’বছর পর পর জাপান প্রার্থী দেয়, এটা ফেয়ার নয়। প্রেসিডেন্ট জিয়া বললেন, ভারত আমাদের সমর্থন করলে আমরা জয়ী হতে পারবো। তিনি বললেন ইন্ডিয়ার সঙ্গে সাইফুর রহমানের সম্পর্ক ভালো। উনি ইন্ডিয়াকে বোঝাতে পারবেন। ফলে আমি প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত হয়ে ভারতে গেলাম। ভারতের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাইর সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হলো। তিনি তার পররাষ্ট্র সচিবের আপত্তি সত্ত্বেও তত্ক্ষণাত্ বাংলাদেশকে সমর্থন দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা আমাকে জানান। একইসঙ্গে আমাকে পাঠানো হলো শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানে। তিনটি দেশ সফর করে তাদের সমর্থন আদায় করলাম। তারা আমাদের সমর্থন জানায় এবং বাংলাদেশ ওই সম্মানিত পদে নির্বাচিত হয়। এজন্য প্রেসিডেন্ট জিয়া খুব খুশি হন। ওই সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন মুহাম্মদ শামস উল হক। তিনি আমাকে একটা পত্র দেন। ওই পত্রে তিনি আমাকে অভিনন্দন জানান এবং বলেন যে, আপনার কাজের অকুণ্ঠ প্রশংসা করেছেন প্রেসিডেন্ট জিয়া। 
প্রেসিডেন্ট জিয়ার সঙ্গে জাপান সফরের এক স্মৃতির কথা উল্লেখ করে সাইফুর রহমান লেখেন, অধ্যাপক শামস উল হক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার আগে প্রকৃতপক্ষে আমিই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাজ করতাম। আমাকে বার বার ইন্ডিয়া যেতে হয়েছে, প্রেসিডেন্ট আমাকে সিঙ্গাপুর নিয়ে গেছেন। ইউরোপিয়ান ইকোনমিক কমিশনেও আমাকে যেতে হয়েছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী ওহিরা’র মৃত্যুর পর সিদ্ধান্ত নেয়া হলো, আমাকেই ফিউনারেলে পাঠানো হবে। এতে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা যোগ দেবেন। আমরা প্রতিনিধি দলে ছিলাম ৩ জন। আমি, পররাষ্ট্র সচিব এসএমএসএ কিবরিয়া ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিজি এমআর ওসমানী। সময়টা ছিল ১৯৭৮ সালের শেষের দিকে। তখন প্রেসিডেন্ট জিয়া দেশের বাইরে যেতে আগ্রহী ছিলেন না। কারণ সামনেই সাধারণ নির্বাচন ছিল। জাপান যাওয়ার একদিন আগে জিয়া আমাকে টেলিফোন করলেন রাত ৮টার দিকে। তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময়ও খুব কাছাকাছি ছিল। প্রেসিডেন্ট জিয়া মনে করেছিলেন, নির্বাচনের কাজে ব্যস্ত থাকার জন্য প্রেসিডেন্ট কার্টার আসতে পারবেন না। কিন্তু পরেই জানা গেল প্রেসিডেন্ট কার্টার একদিনের জন্য জাপান যাবেন এবং ফিউনারেলে যোগ দেবেন। বাংলাদেশের স্বার্থেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাত্ করা জরুরি। তাছাড়া এর আগে প্রেসিডেন্ট জিয়ার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট কার্টারের সাক্ষাত্ হয়নি। ফিউনারেলে যোগদানে এই সুযোগটি সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু প্রতিনিধি দলের নাম আগেই চলে গেছে। এই অবস্থায় প্রেসিডেন্ট জিয়া আমাকে টেলিফোন করে বলেন, ‘মিস্টার ফাইন্যান্স মিনিস্টার, উড ইউ টেক মি এজ ইউর কমপেনিয়ন ইন জাপান।’ উনি আরো বললেন, আপনারা ফাইন্যান্স মিনিস্টাররা অত্যন্ত লাকি। দু’দিন পর পর বিদেশ চলে যান। ওয়াশিংটন, জেনেভা, লন্ডন, টোকিও। প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার সুযোগ তো কম। কোনো প্রেসিডেন্ট দাওয়াত না করলে এবং প্রকৃত উপযোগী সফর না হলে তো যাওয়া যায় না। আমি তখন রসিকতা করে বলি, ফাইন্যান্স মিনিস্টার হওয়ার জন্য আপনি যু্দ্ধ করেছেন? তাহলে প্রেসিডেন্সি চলবে কী করে? যা হোক, আপনি কি যেতে চান? উনি বললেন, হ্যাঁ। আমি তো যেতে চাই। প্রতিনিধি দলের নাম তো তাদের কাছে আগেই পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। আই উড লাইক টু মাই সেলফ এজ এ মেম্বার অব দ্য ডেলিগেশন। আমি বললাম, ডেলিগেশনে আপনার নাম শুধু যোগ হবে না, ইউ উইল বি লিডিং দ্য ডেলিগেশন। এভাবেই তিনি জাপান গেলেন। তিনি আমার সঙ্গী হতে চেয়েছিলেন। আমরা ওনার সঙ্গী হলাম। দেখেন, প্রেসিডেন্ট জিয়া কত সুন্দরভাবে কথাগুলো বলেন। কারণ তিনি জানতেন দলের নাম আগেই জাপান পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। তাছাড়া প্রটোকলের বিষয় ছিল। এসব কারণে তিনি ওইভাবে কথা বলেননি। যা হোক, আমরা জাপান গেলাম। প্রেসিডেন্ট কার্টারের সঙ্গে জিয়ার সাক্ষাত্ হলো। আমি জাপানের কাছ থেকে ৬৫ মিলিয়ন ডলারের একটি ঋণেরও ব্যবস্থা করলাম। আমার কথা শুনে প্রেসিডেন্ট জিয়া চেয়ার থেকে লাফ দিয়ে উঠে আমাকে জড়িয়ে ধরেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে, বিশেষ করে ওআইসিতে প্রেসিডেন্ট জিয়ার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি মনে করতেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য ওআইসির মতো একটা আন্তর্জাতিক সংগঠনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক রাখা ভালো। 
চট্টগ্রামে প্রেসিডেন্ট জিয়া নিহত হওয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করে সাইফুর রহমান লেখেন, ১৯৮১ সালের বাজেট প্রস্তুতির কাজ করছিলাম। ২৯ মে প্রেসিডেন্ট জিয়া ভোর বেলা আমাকে টেলিফোন করে বলেন, আমি চট্টগ্রাম যাচ্ছি। আপনার কাছে দু’টো ফাইল যাচ্ছে। তাতে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা আছে। ফাইল দু’টো সই করে দেবেন। আমি প্রেসিডেন্টকে বললাম, বাজেট পেশ করার মাত্র ৬ দিন বাকি। এ সময় তো আপনার আমার সঙ্গে থাকার কথা। উনি বললেন আমি কালই চলে আসবো। এরপর আপনাকে সময় দেবো। তখন ব্যাংকে অরাজকতা চলছিল। আমি বললাম, এ ব্যাপারে আপনি যদি চট্টগ্রামের জনসভায় একটা কঠোর সতর্কবাণী দেন তাহলে ভালো হবে। এতে তারা সংযত হবে। প্রেসিডেন্ট জিয়া মন্তব্য করেন, আমাকেই সবকিছু করতে হবে কেন? তাহলে আপনারা আছেন কেন? কেন, সাত্তার সাহেব করতে পারেন না? উনি ভাইস প্রেসিডেন্ট না? প্রেসিডেন্ট জিয়া একনাগাড়ে কথাগুলো বললেন। তিনি সাধারণত এভাবে বলেন না। এটাই ছিল তাঁর সঙ্গে আমার শেষ কথা।
৩০ মে ভোর বেলায় আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। রাতেই প্রেসিডেন্টকে হত্যা করা হয় আমি জানি না। আমি বাসায় ছিলাম। কারণ কথা ছিল প্রেসিডেন্ট ঢাকায় ফিরলে আমি বঙ্গভবনে যাবো এবং বাজেট নিয়ে আলোচনা করবো। ভোর বেলা বঙ্গভবন থেকে একটা টেলিফোন পাই, আমাকে সেখানে জরুরিভাবে যেতে বলা হলো। ফোন করেছেন সামরিক সচিব। আমি ভেবেছি হয়ত প্রেসিডেন্ট এসে গেছেন, আমাকে ডেকেছেন। আমি স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি প্রেসিডেন্ট জিয়া নিহত হয়েছেন। বঙ্গভবনে গিয়ে প্রেসিডেন্টের কামরায় ঢুকলাম। দেখলাম প্রেসিডেন্টের চেয়ারে জাস্টিস সাত্তার সাহেব বসে আছেন। এ অবস্থা দেখে আই গট এ শক। জামাল উদ্দিনকে জিজ্ঞাসা করলাম, কি ব্যাপার? জামাল উদ্দিন আমাকে বলেন, জানেন না? প্রেসিডেন্ট জিয়াকে হত্যা করা হয়েছে। আমি চমকে গেলাম। জেনারেল মঞ্জুর হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন বলে বঙ্গভবনে ধারণা পেলাম। জামালউদ্দিন বললো, এমনভাবে প্রেসিডেন্টের দিকে গুলি ছোঁড়া হয় যে, তাঁর দেহের অনেক অংশ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। তাঁর লাশ চিহ্নিত করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। মঞ্জুর অত্যন্ত বুদ্ধিমান ছিলেন। তিনি এরকম একটি কাজ করবেন বলে আমার মনে হয় না। বেঁচে থাকার সময় দেখেছি জিয়ার সামনেই মঞ্জুর উচ্চস্বরে কথা বলেছেন। তবু মঞ্জুর ছিলেন জিয়ার ভালো বন্ধু। জেনারেল মঞ্জুরের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না। জিয়া সাহেবের পত্রের জবাব তিনি দিতেন উদ্ধতভাবে। আমরা এসব জানার পর প্রেসিডেন্ট জিয়াকে বলি, আপনি চট্টগ্রামে যাবেন না। মঞ্জুর যদি কোন অঘটন ঘটায়। উনি হাসতেন। বলতেন, মঞ্জুর বুদ্ধিমান। বোকার মতো সে চট্টগ্রাম থেকে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করবে না। বস্তুত মঞ্জুর ছিলেন জিয়ার ভাল বন্ধু। প্রেসিডেন্ট জিয়ারও দৃঢ়বিশ্বাস ছিল, মঞ্জুর তার কোনো ক্ষতি করবেন না। জিয়া নিহত হওয়ার পরদিন আমি খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যাই। তখন তিনি ছিলেন একজন সাধারণ গৃহবধূ। তিনি খুবই শোকাহত ছিলেন। তিনি আমাকে বললেন, এতবড় একটি ঘটনা ঘটে গেল, একজন প্রেসিডেন্টকে মেরে ফেলা হলো, আর সবাই যে যার যার মতো সেখান থেকে পালিয়ে গেল, সৈন্যরাও কারো কোনো ক্ষতি করলো না, শুধু একজনকে পৃথকভাবে মারলো—এটা কী করে সম্ভব? উনি বার বার আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, ডাক্তার সাহেব কোথায় (অর্থাত্ অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী)? তখন বি চৌধুরীও জিয়ার সঙ্গে চট্টগ্রামে ছিলেন। আমি বললাম, ওনার সঙ্গে আমার দেখা হয়নি। বেগম জিয়া তার মুখ থেকে হয়তো ওই সময়ের অবস্থা জানতে চাচ্ছিলেন। বেগম জিয়াও বিশ্বাস করতেন না যে, মঞ্জুর তার স্বামীকে হত্যা করেছে। কারণ জিয়া ও মঞ্জুর এত ঘনিষ্ঠ ছিলেন যে, একথা বিশ্বাস করা অসম্ভব যে, জিয়ার কোনো ক্ষতি করবে মঞ্জুর বা মেরে ফেলবে। মঞ্জুর জিয়াকে মেরেছে, একথা এখনো বেগম জিয়া বিশ্বাস করেন বলে আমার মনে হয় না। এটা এখনো অমীমাংসিত রহস্য রয়ে গেছে যে, জিয়াকে কে বা কারা মেরেছে। জেনারেল এরশাদ তাড়াহুড়া করে তদন্ত শেষে কয়েকজন লোককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিল।
জিয়ার মৃত্যুর পর আমি সৌদি আরবে গিয়েছিলাম। বর্তমান সৌদি বাদশা আবদুল্লাহ ইবনে আজিজ তখন ছিলেন ন্যাশনাল গার্ড-এর প্রধান। তিনি আমাকে চিনতেন। সৌদি সরকারের সবাই প্রেসিডেন্ট জিয়াকে সম্মান করতেন। তিনি আমাকে বললেন—তোমাদের লোকেরা কীভাবে জিয়াকে নিহত করতে পারলো? তিনি এমন একজন উদীয়মান তারকা যিনি মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছিলেন। আমি কোন জবাব দিতে পারলাম না।

মেধাবীদের দলে ভেড়াতে শিবিরের বিশেষ কৌশল


২৬ শে মে, ২০১২ রাত ১১:১০

মান্নান মারুফ ও নুর মোহাম্মদ
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
মেধাবী তরুণদের দলে ভেড়াতে বিশেষ কৌশল নিয়েছে জামায়াত-শিবির। এ কৌশলেরই অংশ হিসেবে দেশব্যাপী এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিচ্ছে তারা। নতুন প্রজন্মের কাছে জামায়াতকে আরো পরিচিত করে তোলার পাশাপাশি সংগঠন শক্তিশালী করার জন্যই জামায়াত-শিবিরের এ আয়োজন বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।

বিষয়টি বুঝতে পেরে এরই মধ্যে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা জামায়াত-শিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করেছে।

একই কায়দায় পরীক্ষিত কর্মী বা সদস্যদের জামায়াতের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি দিয়ে আত্মনির্ভরশীল করে তুলছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। বেকারদের চাকরি বা ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য নগদ অর্থ দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করছেন।

এই যুবক শ্রেণী একটা সময় সরকারের জন্য বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা জেগেছে। আর তাই শিবিরের কার্যক্রমে কড়া নজর রাখছে সরকার। 

এছাড়া তারা যুদ্ধাপরাধের বিচারে বিঘ্ন ঘটাতে ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে পারেন, এমন আশঙ্কাও করছে সংস্থাটি। সবকিছু মিলিয়ে কোনো অঘটন যাতে তারা না ঘটাতে পারেন, সে জন্য কড়া দৃষ্টি রাখছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারি এক গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, ‘কর্মী বাড়াতে নতুন কৌশল নিয়ে শিবিরের মাঠে নামার বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। এ ব্যাপারে আমরা সতর্ক দৃষ্টি রাখছি।’

এদিকে এসএসসি ফল প্রকাশের পর থেকে সারাদেশে এখন পর্যন্ত ৫ হাজারেও বেশি ছাত্রকে শিবিরের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। 

এছাড়া শিবিরের ছাত্রী সংস্থা জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের নিয়ে রাজধানীতে দু’টি অনুষ্ঠান করেছে। এতে শিবিরের কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। 

শিবিরের একটি সূত্র জানিয়েছে, এবার সারাদেশে জিপিএ-৫ পাওয়া ৮২ হাজার ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে ১৫ থেকে ২০ হাজার ছাত্র-ছাত্রীকে সংবর্ধনা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে শিবির। 

এরই অংশ হিসেবে কেন্দ্র থেকে সারাদেশের সব মহানগর, জেলা, উপজেলা, ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটিকে জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর দিনই ঢাকা মহানগর শাখার উদ্যোগে সাড়ে ৪শ’ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেয় শিবির। 

গত ২০ মে দুই সহস্রাধিক জিপিএ-৫ প্রাপ্তকে সংবর্ধনা দিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা শিবির। নগরীর ‘দি কি চিটাগং কমিউনিটি সেন্টারে’ এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল জব্বার। 

এছাড়া একই দিনে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, সিলেট ও মৌলভীবাজারে জিপিএ-৫ পাওয়া ছাত্রদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। 

লক্ষ্মীপুরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিবিরের সাবেক সভাপতি ড. রেজাউল করিম। আর মৌলভীবাজারের ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আবু সালেহ মো. ইয়াহইয়া।

শিবির দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে এ ধরনের সংবর্ধনা দিচ্ছে। একই সঙ্গে তারা সারাদেশে সদস্য সংখ্য বৃদ্ধি করতেও কাজ করছে বলে শিবিরের একটি সূত্র জানিয়েছে। 

শিবিরের সূত্র মতে, এ বছর দেশব্যাপী ছাত্রশিবিরের ১৪৭টি সাংগঠনিক শাখার মাধ্যমে জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এরই মধ্যে কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন উপঢৌকন পাঠানো হয়েছে। 

চলতি বছরের ৫ জুন পর্যন্ত শিবিরের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে বলে সূত্র উল্লেখ করেছে।

সূত্র আরো বলছে, সব শাখায় নবীন ছাত্রছাত্রীদের দৃষ্টি কাড়তে শিবিরের কেন্দ্রীয় কোনো নেতা অথবা স্থানীয় প্রভাবশালী কোনো ব্যক্তিকে এসব সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

এসব কর্মসূচি ছাত্রদের দলে ভেড়ানোর কৌশল কি-না প্রশ্ন করলে শিবিরের প্রচার সম্পাদক আবু সালেহ মো. ইয়াহইয়া বাংলানিউজকে বলেন, ‘মোটেও না। এতো কষ্ট করে ছাত্ররা জিপিএ-৫ পেয়েছে। তাই আমাদের দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা এ ধরনের সংবর্ধনার আয়োজন করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ ভিত্তিহীন। যেসব অভিযোগ উঠেছে তা আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ছাড়া আর কিছুই নয়।’ 

ঢাকার এক শিবির নেতা বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমরা মূলত চারটি ক্যাটাগরিতে সংবর্ধনা দিয়ে থাকি। এর মধ্যে আছে গরিব মেধাবী ছাত্র, সমাজে প্রতিষ্ঠিত, আওয়ামী লীগের কিংবা বিএনপির রাজনীতিবিদের পরিবার অথবা এলাকার প্রভাবশালী কোনো ব্যক্তির ছেলে-মেয়ে।’ 

তাদের কিভাবে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আনেন জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘আমরা প্রথমে জিপিএ-৫ পাওয়ার জন্য শুভেচ্ছা বাণী, রজনীগন্ধার একটি স্টিক, সঙ্গে এক কেজি মিষ্টি পাঠানোর চেষ্টা করি। পরে সংবর্ধনার কার্ড পাঠাই। কার্ডে শুধু অনুষ্ঠান কোন দিন এবং কোথায় হবে উল্লেখ থাকে।’

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের দিন তাদের কয়েকজন কর্মী ছাত্রদের বাসা থেকে নিয়ে আসেন বলেও জানান তিনি। 

শিবির গত কয়েক বছর রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তন, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনসহ নামকরা কয়েকটি স্থানে এসব সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেও সরকারের কঠোর মনোভাবে কারণে গত দু’বছর তারা কিছুটা গোপনে এসব অনুষ্ঠান করছে। এসব অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আব্দুর রউফসহ সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের এসব অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হতো। 

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আসা শিক্ষার্থীদের প্রথমে ভালো কলেজ সম্পর্কে ধারণা দিয়ে সেসব কলেজে ভর্তি করানোর নানা প্রলোভন দেখানো হয়। যারা তাদের পছন্দমতো কলেজে ভর্তি হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন, তাদের পুরো ঠিকানা ও যোগাযোগের সব মাধ্যম রাখা হয়। এরপর শুরু হয় তাকে দলের টানার পরবর্তী কার্যত্রুম। 

প্রভাবশালী পরিবারের ছাত্রদের সংবর্ধনার এসব বিষয় পরিবারের কাছে গোপন রাখতে বলা হয়। 

এসব কর্মসূচি পালন করতে লাখ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। এসব অর্থের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে শিবিরের কেন্দ্রীয় এক নেতা বাংলানিউজকে বলেন, ‘প্রত্যেক শাখা তাদের নিজস্ব অর্থায়নে এ সংবর্ধনা দিয়ে থাকে। প্রকাশনা থেকে টাকা আসে। এছাড়া শুভাকাক্ষীরা আছেন, তারাও দেন। এরপরও যদি না হয় তাহলে কেন্দ্র থেকে আমরা টাকা দিয়ে থাকি।’ 

দলীয় সূত্র জানায়, গরিব মেধাবী ছাত্রদের দলে টানতেই সবচেয়ে সুবিধা পায় শিবির। 

মেধাবীদের দলে ভেড়াতে শিবির আরো যেসব কৌশল নিয়েছে সেগুলো হলো- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমর্থক সংগ্রহের জন্য রক্তদান, বৃক্ষরোপণ, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও দুস্থ কৃতী ছাত্রদের অর্থ সহায়তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি ফার্স্টদের স্বর্ণপদক প্রদানসহ নানা কর্মসূচি। 

সংগঠনটির মতে, ২০১১ সাল তাদের রাজনীতি অনুকূলে ছিল না। তারপরও শিবির তাদের কর্মকাণ্ড থেকে পিছিয়ে ছিলো না। গেল ডিসেম্বরেই সারা দেশে শিবিরের জেলা, উপজেলা ও ইউনিটের কাউন্সিল করা হয়েছে বলে শিবিরের এক নেতা বাংলানিউজকে জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করে সংগঠনটির বেশ কয়েকজন নেতা বাংলানিউজকে বলেন, ‘সরকার আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, রাজপথে কর্মসূচি পালনে বাধা, দলীয় কার্যালয়ে বসতে না দেওয়ায় আমরা গোপনে সংগঠনের কাজ চালিয়ে গেছি।’

জামায়াত ও শিবিরের অনেক সিনিয়র নেতার ব্যাপারে হতাশা প্রকাশ করে বংলানিউজকে বলেন, ‘বিরোধী দলের ওপর সরকারের যে কঠোর মনোভাব তা দেখে মনে হচ্ছে আমাদের সিনিয়র নেতাদের দলে ফিরতে দেবে না। এজন্য শিবির দলকে টিকিয়ে রাখতে প্রকাশ্যে ও গোপনে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।’

বাকশালিরা মানুষ হবে কবে? তারেক রহমান সম্পর্কে আমি কোন মন্তব্য করিনি: ক্রাউলি


২০ শে মে, ২০১২ রাত ১:১৪

বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে কোন মন্তব্য করেননি বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের প্রভাবশালী আইন প্রণেতা ও বাংলাদেশ ককাসের কো-চেয়ারম্যান জোসেফ ক্রাউলি। একই সঙ্গে তাকে জড়িয়ে যারা অপপ্রচার চালিয়েছেন, তার অফিসে যেতে তাদের নিষেধ করেছেন তিনি। গত ৭ই মে জোসেফ ক্রাউলির সঙ্গে তার নিউ ইয়র্ক অফিসে সাক্ষাৎ করতে যান যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমানসহ পাঁচ সদসস্যের একটি প্রতিনিধিদল। ওই প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ক্রাউলি বলেছেন, ‘তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরে আসবেন- এটা আমরা আশা করি না।’ শুক্রবার বিকালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা শওকত মাহমুদসহ যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র একটি প্রতিনিধিদল নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটানে ক্রাউলির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান। এ সময় তিনি সোজা বলে দেন, ‘আমি এ ধরনের কোন কথা বলিনি।’ প্রতিনিধিদলের সদস্য বেলাল মাহমুদ জানান, সাক্ষাতের সময় শওকত মাহমুদ ক্রাউলিকে জানান, তারেক প্রসঙ্গে তাকে জড়িয়ে আওয়ামী লীগ অপপ্রচার চালাচ্ছে। ক্রাউলি তখন বিষয়টিকে অপ্রত্যাশিত বলে উল্লেখ করেন। ক্রাউলি বলেন, ‘তারেক রহমান সম্পর্কে আমি কোন মন্তব্যই করিনি। বাংলাদেশের কোন রাজনীতিবিদ কেন- কোন দল সম্পর্কেও আমি কোন উক্তি করিনি। বাংলাদেশ ও দেশের জনগণ সম্পর্কে আমি খুবই উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশ ককাসের কো-চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য এবং মানবিক কারণেই আমি সবসময় বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলি।’ বেলাল মাহমুদ আর জানান ক্রাউলি বলেছেন, ‘আমাকে নিয়ে যারা অপপ্রচার করেছে, তাদের আমার অফিসে আসা নিষেধ।’ তারেক রহমানের পক্ষে অনেকগুলো ডকুমেন্ট গত ২রা মে জোসেফ ক্রাউলির অফিসে তার স্টাফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ কথা জানালে ক্রাউলি জানান, ডকুমেন্ট সম্পর্কে তিনি জানেন। সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে তার চিফ অব স্টাফ মি. জারমি উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাংলানিউজ২৪
Click This Link

সংক্রামক ভাইরাস B.A.L থেকে সাবধান


১ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ৮:০৪

আওয়ামিলীগ এর যে কয়জন ভালো লোক আছে তারাও ইদানিং বাচাল নেত্রী হাসিনা ও মহিলা গুন্ডা মতিয়াদের ভাষায় কথা বলা শুরু করেছেন। এটা সংক্রামক মানসিক রোগ নাকি? ভাল লোক বলে পরিচিত ড.হাসান মাহমুদ এখন বেয়াদব হানিফ,মায়া,টাউক্কা কামরুল,শেখ সেলিম,ম.খা.দের মত কথা বলতে শুরু করেছেন। তাহলে বুঝা গেল B.A.L হল একটা ভাইরাস, এটার কাছে গেলেই মানসিক রোগ ছড়িয়ে পরে। তাই ভাল মানুষদেরকে এদের থেকে দূরে থাকার আহবান জানাই

আই এস আই টাকা কাহিনী নিয়ে আজ একজন পাঠক প্রথম আলোতে যে মন্তব্য করেন


১৭ ই মার্চ, ২০১২ রাত ৮:২৯

আমরা সবাই জানি বাসস সরকারের গীত গায়। আর ইন্ডিয়া টুডে ভারতের অন্যান্য পত্রিকার মত পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আইএসআই নিয়ে যা খুশি মনগড়া কথা কোনো তথ্য প্রমান ছাড়াই লিখে থাকে। কোনো পত্রিকাই আসাদ দূররানি কি বলেছে সেটা verbatim তুলে ধরেনি। প্রথম আলোর উচিত আসাদ দূররানি আসলে কি বলেছে সেটা স্ব-উদ্যোগে বের করে হুবহু তুলে ধরা। যতটুকু জানি আসাদ দুররানি উল্লেখ করেছেন পাকিস্তানের নির্বাচনের ফলাফল পিপিপির বিপক্ষে যেন যায় তার জন্য আইএসআই সরকারী টাকা ঢেলেছে। উনি বাংলাদেশের কথা কিছু বলেননি, ওটা ভারতীয় সাংবাদিকদের ধারণা। খালিজ টাইমস-ও সংবাদটি এমনভাবে ছাপিয়েছে তাতে মনে হয় তারাও আসল সত্য জানেনা। খালিজ টাইমস যেটাকে সন্দেহ হিসেবে মনে করেছে, বাংলাদেশী পত্রিকাগুলো সেটাকে সত্য হিসেবে ধরে নিয়েছে। গতকাল যে ডেইলি মেইল-এর খবরের উধৃতি তুলে ধরা হয়েছিল, সেটাও "ডেইলি মেইল ইন্ডিয়া"র খবর, লিখেছিলেন একজন ভারতীয় সাংবাদিক। আর পাঠকরা সেটা নিয়ে লাফাচ্ছে। ভারতীয় পত্রিকা কিংবা আমাদের সরকারী সংবাদ সংস্থার মনগড়া রিপোর্ট সুত্র হিসেবে না দিয়ে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে একটু তদন্ত করে দেখা হোক। জনগনকে সত্য জানতে দেয়া হোক

সমুদ্র সীমা বিজয়, কিন্তু সম্পদ রক্ষা করতে পারব তো?

সম্প্রতি মিয়ান্মারের সাথে মামলা আমরা জয়ী হয়ে আমাদের সমুদ্র সীমানার সম্পুর্ণ অধিকার পেলাম। এজন্য দিপু মনি কে ধন্যবাদ(সবক্ষেত্রে ব্যর্থ হলেও এইটার জন্যবাদ পাবার যোগ্য)।
কিন্তু আমাদের বিজয়ের হাসি মিলিয়ে যায় যখন দেখি আমাদের সমুদ্র এরই মধ্যে সরকার বিভিন্ন আমেরিকান কোম্পানির কাছে তেল গ্যাস এর জন্য ইজারা দিয়ে দিয়েছে। আমাদের এই সম্পদের কতটুকু আমরা রক্ষা করতে পারব এটাই এখন প্রশ্ন।

ধিক্কার জানাই বিচারপতি নামের কলংক শামসুদ্দিন কে

বাকশালী বিচারপতি শামসুদ্দীন আবার রুল দিল। এই বার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি অগণতান্ত্রিক সকল কাজের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠের ধারক আসিফ নজরুল তার তার টার্গেট। এই ভাবে আর কত গণমাধ্যমের টুটি চেপে ধরবেন উনি? বিচার না করে সরকারের সরাসরি পা চাটা উচিত উনার। ধিক!